আগামীর সময়

বইমেলায় ‘প্রাণহীন’ লিটলম্যাগ চত্বর

বইমেলায় ‘প্রাণহীন’ লিটলম্যাগ চত্বর

সংগৃহীত ছবি

এক সময় বইমেলার যে চত্বরটি ঘিরে ছিল সৃজনশীল লেখকদের আড্ডা, সেটিই যেন এখন প্রাণহীন নিরব। মেলার আয়োজক কমিটির অবহেলা আর লিটলম্যাগ কর্মীদের তারণ্যদীপ্ত উদ্দীপনার অভাবে এ বছর চত্বরটি জৌলুস হারিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে এবার লিটলম্যাগ চত্বরকে রাখা হয়েছে। দূর থেকে জায়গাটিকে একটি ‘আবদ্ধ বাক্সের’ মতো দেখা যায়।

তরুণ কবি মাইদুল হাসান বলেন, ‘লিটলম্যাগ চত্বর হবে উন্মুক্ত। খোলা আকাশের মতো। কিন্তু বাংলা একাডেমি চত্বরটিকে এমনিভাবে রেখেছে, মনে হচ্ছে এটা একটা আবদ্ধ জায়গা।’

চত্বরটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায় এবড়োথেবড়ো মাটির টিলা। স্টলগুলো ঘিরে আছে বিশাল লাল-সবুজ কাপড়ের বেষ্টনী।

এবার ৮৭টি স্টলের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্টলে প্রতিনিধিরা বসে অবসর সময় পার করছেন।

প্রতিবেশী নামের একটি স্টলে থাকা বিনয় কস্তা বলেন, ‘এবার তো মেলা নিয়ে শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা ছিল। অনেকেই লিটলম্যাগের নতুন সংখ্যা প্রকাশ করেননি।’

জয়ধ্বনি স্টলের রাসেল আহমেদ বলেন, ‘এই চত্বরে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি স্টলের প্রতিদিনের বিক্রি মিলিয়েও দুই হাজার টাকা উঠছে না।’

বৃহস্পতিবার ছিল বইমেলার ৮ম দিন। এদিন দুপুর ২ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত মেলার
তথ্যকেন্দ্রে এদিন নতুন বই জমা পড়েছে ৯২টি।

বিকেল ৩ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবর্ষ : সুকান্ত ভট্টাচার্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুমন সাজ্জাদ, আলোচনায় অংশ নেন আহমেদ মাওলা ও সভাপতিত্ব করেন আবদুল হাই শিকদার।

এ সময় সুমন সাজ্জাদ বলেছেন, ‘বাংলা সাহিত্যে কিশোর কবি আখ্যা পেলেও সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা মোটেই কিশোরসুলভ চপলতায় আচ্ছন্ন নয়। ভাবাদর্শিকভাবে কবি সুকান্ত হয়ে উঠেছিলেন আন্তর্জাতিক। তাই তার কবিতায় চিত্রিত হয়েছে কাশ্মীর, স্তালিনগ্রাদ ও প্যারিসের সংগ্রামী ছবি। মূলত ঔপনিবেশিক ইতিহাস
বোঝার ক্ষেত্রে মার্কসবাদ সুকান্তকে সহায়তা করেছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে আহমেদ মাওলা বলেছেন, ‘কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য জীবনের খুব অল্প সময়ই কাব্যচর্চার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার কাব্যপ্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন। তিনি লোকজীবনের ভাষাকে কাব্যভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।’

আবদুল হাই শিকদার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও সামাজিক অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের যোগ্য উত্তরসূরি। বাংলাদেশের সকল লড়াই-সংগ্রামে সুকান্তের প্রতিবাদী পঙক্তি বারবার উচ্চারিত হয়েছে।’

এদিন ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন ও কবি আসাদ কাজল।

বিকেল ৪ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শোভা চৌধুরী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন শাকিলা মতিন মৃদুলা এবং সালমা সুলতানা। সংগীত পরিবেশন করেন আব্দুল লতিফ শাহ, এলাহী মাসুদ, ডলি মণ্ডল, শামীম সালাম, সাইফুল ইসলাম, মো. আলতাফ হোসেন ও জাকির হোসেন আখের।

    শেয়ার করুন: