আগামীর সময়

পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিতে চান মোহন রায়হান

‛’
পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিতে চান মোহন রায়হান

সংগৃহীত ছবি

স্থগিত হওয়ার পর পর্যালোচনায় পাওয়া বাংলা অ্যাকাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেই নিতে চান কবি মোহন রায়হান। ‛সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বিবেচনায়’ পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।


জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল রোববার বেলা পৌনে ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্ত জানালেন কবি। তবে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না পুরস্কারের অর্থ।


পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হলেও বিভাজনের চেয়ে ঐক্য, প্রতিহিংসার চেয়ে প্রজ্ঞা এবং অপমানের চেয়ে মর্যাদা বেছে নেওয়াই সবার কর্তব্য, মনে করেন কবি। তিনি বলেন, ‛আমি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে এই পুরস্কার গ্রহণ করছি’।


মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলা অ্যাকাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এর জন্য ৯ বিশিষ্টজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন।

ঘোষণা অনুযায়ী পুরস্কার নিতে উপস্থিত হন কবি মোহন রায়হানও। তখন জানতে পারেন, বাতিল হয়েছে তার পুরস্কার। এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন কবি। শুরু হয় সমালোচনা।


দুই দিন পর ফের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মোহন রায়হানকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিতে সোমবার সকাল ১১টায় অ্যাকাডেমিতে তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।


ঘটনাটি ঘিরে অনভিপ্রেত, দুঃখজনক এবং বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য কবি মোহন রায়হানের। অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে পুরস্কার না দেওয়াকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত অপমান নয়, দেখছেন মুক্তচিন্তার প্রতি অবমাননা হিসেবে।


কবির অভিযোগ, ‛একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যারা অতীতে স্বৈরাচার ও স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির সহচর ছিল, নতুন পরিচয়ের আড়ালে সামাজিকমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াতে থাকে,
এমনকি ২২ জন লেখক, কবি ও সাংবাদিকের নামে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়, যাদের অনেকেই পরে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।’


তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে হয় জরুরি সভা। পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে কবিকে ২০২৬ সালের বাংলা অ্যাকাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, বলেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।


পর্যালোচনায় বদলানো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পক্ষে কবির ব্যাখ্যা, ‛যুক্তি ছিল, যড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জয়ী হতে দেওয়া। আবার অনেকে মত দেন এই অপমানের প্রতিবাদে পুরস্কার বর্জনই নৈতিক অবস্থান হবে। আমি গভীরভাবে ভাবলাম। আমি কোনো পদক বা অর্থের কাঙাল নই। জীবনের সায়াহ্নে এসে সামান্য স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রত্যাশাই আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।’

‛আমি স্মরণ করি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও দুই দফা আলোচনা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট বলেছিলাম, আমাদের চাওয়া একটাই, কলমের স্বাধীনতা। কথা বলার স্বাধীনতা। তিনি বলেছিলেন; ভালো কাজে উৎসাহ দেবেন, ভুল করলে সমালোচনা করবেন। আমি সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখেই পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’


এরপর ‛জাতীয় কবিতা পরিষদের’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বিবেচনায় পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান। পুরস্কারের অর্থ সামর্থ্যহীন কবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে দেওয়ার আহ্বান প্রবীণ এই কবির। পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করার দাবিও জানালেন তিনি।

সব শেষে দিন পরিবর্তন করে হলেও মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার অনুরোধ জানালেন কবি মোহন রায়হান। 



    শেয়ার করুন: