ভাঙলো প্রাণের মেলা, বই বিক্রি ১৭ কোটি টাকার

কম বই প্রকাশ আর স্বল্প বিক্রি নিয়েই শেষ হল এবারের অমর একুশে বইমেলা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যে মেলার পর্দা উঠেছিল, তা সাঙ্গ হল রবিবার রাত ৯টায়।
মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেছেনন, ‘লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের সামষ্টিক উদযাপনে আগামীর বইমেলা নতুনরূপে প্রত্যাশা জাগাবে আমরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি।’
শেষ দিন ইফতারের পর মেলায় কিছুটা জনসমাগমের পাশাপাশি অনেকেই পছন্দের বইও কিনেছেন। রাত সাড়ে ৮টায় কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার চত্বরে ছিল মেলার শেষ পুতুলনাট্যের প্রদর্শনী। অনেকেই সেখানে ভিড় করে পুতুলনাট্য উপভোগ করেন।
রবিবার মেলা শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ২৩৬টি।
মেলার জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, এবার বইমেলায় সর্বমোট নতুন বই এসেছে দুই হাজার সাতটি।
বইমেলার প্রতিবেদনে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা বলেছেন, ‘বইমেলায় বাংলা একাডেমিসহ সকল প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে। বাংলা একাডেমি ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে সতেরো লাখ চার হাজার ছয়শত উনত্রিশ টাকার বই বিক্রি
করেছে।’
‘বইমেলায় অংশগ্রহণকারী সর্বমোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৭০টি। ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৭ দিনে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ আট কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে গড় হিসাবে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ’, বলেছেন তিনি।
সমাপনী সন্ধ্যায় অনেকেই মেলায় আড্ডায় মেতে উঠেন। আজিমপুর থেকে এসেছিলেন রাইসা আহমেদ ও আনন্দিতা খান। রাইসা বলেছেন, ‘বইমেলায় এবার খুব একটা আসা হয়নি। কারণ আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম। গতকাল রাতে ঢাকায় এসেই ঠিক করেছি আজকে মেলায় আসবো। শেষ দিন মেলায় এসেছি, তবে ভালো লাগছে। পছন্দের বইও কিনেছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর অনিক বলেছেন, ‘একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারি মাসেই হওয়া উচিত। এবারও ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকেই মেলা শুরু হতেই পারতো। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন আর রোজার কারণে পেছানো দরকার ছিল না। আগামি বছর থেকে একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারি মাসেই হবে বলে আশা করি।’
বিকেল সাড়ে ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি অন্তভুর্ক্তিমূলক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ চাই যেখানে বৈচিত্র্যের মাঝেও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আমাদের সন্তানদের আবার বইয়ের জগতে নিয়ে যেতে হবে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলায়
পাঠাগার ও জ্ঞান প্রসারের জন্য আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘এবারের বইমেলা ছিল পূর্বের মেলাগুলোর তুলনায় অধিক পরিচ্ছন্ন। মেলায় প্রকৃত পাঠকদের উপস্থিতি ছিল বেশি। ভবিষ্যতে শিশুদের জন্যে ভালো মানের বই এবং আনন্দদায়ক আয়োজনের ব্যবস্থা বৃদ্ধি করার কথা আমাদেরকে ভাবতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছেন, ‘যে বই পাঠককে মনের ভেতর থেকে জাগিয়ে তোলে, ন্যায়—অন্যায় বোধ জাগ্রত করে এবং রাষ্ট্র গঠনে ও উন্নত
চিন্তা—চেতনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে সেটিই মানসম্পন্ন বই। একটি জাতির কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ পাঠাভ্যাস দ্বারা নির্ণিত হয়। কাজেই পাঠকদের হাতে ভালো ও মানসম্পন্ন বই তুলে দেওয়ার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’
এসময় বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই, সরদার জয়েনউদ্দীন এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

