ঈদের ছুটি ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন, হতে পারে যে বিপদ

সংগৃহীত ছবি
শহুরে জীবনের নিরন্তর ব্যস্ততা আর ক্লান্তি দূর করতে ছুটির দিনে একটু বেশি ঘুমানোর পরিকল্পনা আমাদের সবারই থাকে। বিশেষ করে ঈদের লম্বা ছুটিতে অনেকেই ভাবেন—পুরো সপ্তাহ বা মাসের না হওয়া ঘুমটুকু একবারে পুষিয়ে নেবেন। কিন্তু ঈদের এই আনন্দঘন সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটানো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে বরং অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘুম শরীরের ক্লান্তি তো দূর করেই না, উল্টো ডেকে আনে নানা জটিলতা।
ঘুমের আদর্শ সময় কতটুকু?
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপিং ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী একজন সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। এমনকি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে ৭ ঘণ্টাকেই আদর্শ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অতিরিক্ত ঘুমের নেতিবাচক প্রভাব
প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘুমালে শরীরে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে:
মানসিক অবসাদ: অতিরিক্ত ঘুম মনকে চনমনে করার বদলে বিষণ্ণতা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।
শারীরিক ব্যথা: দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকার ফলে শরীরে বিশেষ করে পিঠে বা হাড়ে ব্যথার উদ্রেক হয়।
দীর্ঘমেয়াদী রোগ: অতিরিক্ত ঘুম স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রজনন ক্ষমতা: গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুম প্রজনন ক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ঈদের ছুটিতে একটানা ১০-১১ ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেওয়া মানে নিজেকে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দেওয়া। তাই ছুটির আমেজ থাকলেও সুস্থ থাকতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
১. রুটিন মেনে চলা: ঈদের ছুটিতেও প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ধরে রাখুন।
২. প্রিয়জনকে সময় দিন: সারা দিন ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে ঈদের এই বিশেষ সময়টুকু পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটান। এতে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
৩. পরিমিত ঘুম: নিজেকে প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম রাখতে ৭ ঘণ্টার নিয়মিত ঘুমই যথেষ্ট।
তাই অযথা অতিরিক্ত ঘুমিয়ে শরীরের বারোটা বাজাবেন না। সুস্থ থাকুন, আনন্দময় করে তুলুন ঈদের ছুটি।

