আগামীর সময়

পশ্চাদপদতা ভালো যখন

পশ্চাদপদতা ভালো যখন

সংগৃহীত ছবি

আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, আমরা কেন এমন করেই হাঁটি? ছোটবেলায় খেলার সময়, কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মজার ছলে কখনও কি উল্টো চলার চেষ্টা করে দেখেছেন?

দেখতে অদ্ভুত হলেও পেছন দিকে হাঁটাকে শরীরের জন্য ভালো বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মাঝেমধ্যে খেলোয়াড়দেরকে মাঠে পেছন দিকে হাঁটার কিংবা দৌড়ানোর অনুশীলন করতে দেখা যায়। এই চলাকে রেট্রো-ওয়াক বলে।

পেছন দিকে চলার এই অনুশীলন প্রথম প্রাচীন চীনে শুরু হলেও ক্রীড়াঙ্গনে বৈজ্ঞানিক ভাবে নতুন করে আবার এর প্রচলন শুরু হয়েছে। কারণ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, রেট্রো ওয়াকের নিজস্ব বায়ো-মেকানিক্স রয়েছে। যার কারণে রেট্রো ওয়াক পিঠের ব্যথা, হাঁটুর সমস্যা এবং আর্থরাইটিস দূর করতে সাহায্য করে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই অনুশীলন স্মৃতিশক্তি বাড়াতে,উপস্থিত বুদ্ধি বৃদ্ধিতে এবং সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আরেক গবেষক দল তাদের গবেষণাতে এও খুঁজে পেয়েছে যে, দৈনিক ১০-১৫ মিনিট নিয়ম করে পেছন দিকে চলা হ্যামস্ট্রিং নমনীয় করে, খেলোয়াড়দের পিঠের নিচের ব্যথা সারাতে সাহায্য করে এবং সার্বিক ভাবে পেছনের পেশী সবল করতে সাহায্য করে।

নিয়মিত পেছনের দিকে হাঁটার অভ্যাস পিঠের মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতেও গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলোয়ারদের অনেকসময়ই খেলার সময় যেকোনো দিকে দ্রুত মুভ করতে হয়। রেট্রো ওয়াক পেশীকে নমনীয় করে এবং হ্যামস্ট্রিং মজবুত করে খেলোয়াড়দের কর্মদক্ষতা বাড়ায়। শুধু তাই নয়। প্রবীণদের জন্য এবং যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্যও উল্টো হাঁটার অভ্যাস কার্যকর।

পেছনের দিকে চলার এই ব্যায়াম স্বাভাবিক ভাবে হাঁটার তুলনায় বেশি ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। এই নিয়ম স্নায়বিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেও সাহায্য করে। আমাদের শরীরে পিছনের এবং সামনের দিকে চলার জন্য ভিন্ন রকমের স্নায়বিক মুভমেন্টের দরকার হয়ে থাকে।

আমাদের স্নায়ুর প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স সমস্যা সমাধান এবং বিচারবিবেচনার কাজ করে থাকে। পেছনের দিকে হাঁটার অনুশীলন প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্সের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করে। যা স্নায়বিক সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে বলা যায় যে, কেবল স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই নয়, রুটিনের বাইরে গিয়ে মজাদার কার্যকলাপ করে মনকে উৎফুল্ল করার জন্য হলেও চলুন মাঝেমধ্যে খেয়ালখুশি মতো উল্টো হাঁটি।

    শেয়ার করুন: