নারী দেহের সুস্থতায় ওয়েট লিফটিং

সংগৃহীত ছবি
মেনোপজ, পিসিওএস, থাইরয়েড—এসব সমস্যার পেছনে একটি সাধারণ কারণ হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। আর এই ভারসাম্য নষ্ট হলেই শুরু হয় একের পর এক জটিলতা—অনিয়মিত মাসিক, ব্রণ, ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া, মুড সুইং, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা কিংবা লিবিডো হ্রাস।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ওষুধ বা ডায়েটের দিকে ঝুঁকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাধানের একটি শক্তিশালী উপায় হতে পারে নিয়মিত ওয়েট লিফটিং বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং।
লঞ্জিবিটি হেলথ ক্লিনিকের কো-ফাউন্ডার ও এমডি ডা. ভাস সম্প্রতি এ বিষয়ে গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, বিশেষ করে ৩০ বছরের পর নারীদের জন্য ভারোত্তোলন ব্যায়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
স্ট্রেন্থ ট্রেনিং শরীরে গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি এস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে শরীরকে আরও সুস্থ রাখে। ফলে যারা নিয়মিত এই ব্যায়াম করেন, তাদের আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।
অনেকের ধারণা, ওয়েট লিফটিং শুধু পেশী গঠনের জন্য। কিন্তু বাস্তবে এটি নারীর শরীরে প্রাকৃতিক হরমোনাল থেরাপির মতো কাজ করে। এটি অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন কমাতে এবং প্রজেস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে মাসিক চক্র স্বাভাবিক থাকে, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং মুড সুইং কমে যায়।
এছাড়া এই ব্যায়াম ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কমাতে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে বেশি মাসল থাকলে গ্লুকোজ সংরক্ষণের ক্ষমতা বাড়ে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ওয়েট লিফটিং কর্টিসল হরমোন কমিয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে স্থিতিশীল রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং প্রাণবন্ততা বাড়ায়। চল্লিশের পর যখন প্রজেস্টেরনের মাত্রা কমতে থাকে এবং শরীরে মেদ জমার প্রবণতা বাড়ে, তখন এই ব্যায়াম বিশেষভাবে কার্যকর।
এছাড়াও এটি হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে, হাড় ক্ষয় রোধ করে এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—শুধু সৌন্দর্যের কথা ভেবে নয়, বরং সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নারীদের নিয়মিত ওয়েট লিফটিং অভ্যাস করা উচিত।

