সিজনাল অ্যালার্জি? সহজে বাঁচার কার্যকর উপায়

সংগৃহীত ছবি
বাইরে ঝলমলে রোদ, গাছে গাছে ফুল দেখতে ভারী সুন্দর! কিন্তু এই সুন্দর বাতাসই অনেকের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। কারো ফুলের রেণুতে অ্যালার্জি, কারো আবার সয় না ধুলোবালি। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ এই সিজনাল অ্যালার্জিতে ভুগছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন আরও বাড়ছে এই সমস্যা। তবে ভয় নেই, হাঁচি দিতে দিতে জীবন তামাটে হওয়ার আগেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন সহজ কিছু সমাধান।
নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হলেই আমরা টপ করে খেয়ে ফেলি একটা অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধের চেয়ে নাকে দেওয়ার স্প্রে অনেক বেশি কার্যকর। ওষুধ খেলে সেটা রক্তে মিশে নাকে পৌঁছাতে দেরি হয়, কিন্তু স্প্রে সরাসরি কাজ শুরু করে আক্রান্ত জায়গায়। তাই এখন ডাক্তাররা ওষুধের চেয়ে বেশি পরামর্শ দিচ্ছেন নেজাল স্প্রে ব্যবহারের।
নাক বন্ধ ভাব কমাতে আমরা অনেকেই বাজার থেকে যেকোনো ড্রপ বা স্প্রে কিনে ব্যবহার করি। কিন্তু সাবধান! যেসব স্প্রে নাক মুহূর্তেই পরিষ্কার করে দেয়, সেগুলো টানা ৫ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। এতে আপনার নাক ওই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং ওষুধ ছাড়া নাক আরও বেশি বন্ধ হয়ে যায়। তাই জেনেশুনে ব্যবহার করুন সঠিক স্প্রে।
যদি স্প্রে-র বদলে ওষুধ খেতেই হয়, তবে বেছে নিন আধুনিক বা ‘সেকেন্ড জেনারেশন’ ওষুধগুলো। পুরনো দিনের অ্যালার্জির ওষুধ খেলে শরীর ঝিমঝিম করে আর ঘুম পায়। কিন্তু নতুন জেনারেশনের ওষুধে নেই সেই ঝামেলা। তবে মনে রাখবেন, একসাথে স্প্রে আর ওষুধ খাওয়া মানে স্রেফ টাকার অপচয়, কারণ স্প্রে একাই একশ!
অ্যালার্জি শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। আপনার যদি জানা থাকে যে প্রতি বছর এই সময়ে আপনার সমস্যা হয়, তবে অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকেই ব্যবহার শুরু করুন স্প্রে। এতে আপনার শরীর আগে থেকেই যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকবে এবং বড় কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ পাবে না।
অনেকেই ওষুধ দুই-একদিন ব্যবহার করে ছেড়ে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ নিয়মিত ব্যবহার না করলে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। আপনার নাকে অস্বস্তি থাকুক বা না থাকুক, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম করে ব্যবহার করুন স্প্রে বা ড্রপ। তবেই আপনি আরামে কাটাতে পারবেন পুরো মৌসুম।
আমরা অনেকেই নাকে স্প্রে দিয়ে মাথা পেছন দিকে হেলিয়ে দেই, এতে নাকের বদলে গলায় চলে যায় ওষুধ। সঠিক নিয়ম হলো নাকের ফুটোয় স্প্রে-র নলটি ঢুকিয়ে সেটি কানের দিকে একটু বাঁকা করে ধরুন। এরপর মাথা সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে স্প্রে করুন। স্প্রে করার পর সাথে সাথে নাক ঝাড়বেন না, ওষুধকে ভেতরে কাজ করার সময় দিতে হবে।
চোখ চুলকালে আমরা সরাসরি ড্রপ ফেলে চোখ কচলাই, যা একদম ঠিক নয়। এর বদলে মাথা একদিকে কাত করে চোখের ভেতরের কোণায় ড্রপ দিন এবং বারবার চোখের পাতা ফেলুন। এতে ওষুধ পুরো চোখে সমানভাবে ছড়িয়ে যাবে এবং চুলকানি দ্রুত কমে আসবে।
বাইরে বের হলে মাস্ক আর সানগ্লাস ব্যবহার করতে ভুলবেন না। বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে ফেলবেন বা গোসল করে নেবেন। না হলে ফুলের রেণু বা ধুলো আপনার চুল আর কাপড়ে লেগে সারা ঘর চষে বেড়াবে এবং আপনার অস্বস্তি বাড়িয়ে দেবে। ঘুমানোর সময় ঘরের জানালা বন্ধ রাখাই ভালো।
হাঁচি-কাশিকে কেবল ঋতু পরিবর্তনের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। এটি আপনার ঘুম হারাম করতে পারে, এমনকি শিশুদের পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটায়। যদি নিয়ম মেনেও কাজ না হয়, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হতে পারে এটি সাধারণ অ্যালার্জি নয়, বরং অন্য কোনো শ্বাসকষ্টের সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা নিলে আপনিও প্রাণভরে উপভোগ করতে পারবেন এই সুন্দর সময়টা।



