অ্যাসিডিটিতে ভুগছেন? কারণ হতে পারে সকালের নাশতার অভ্যাস

সংগৃহীত ছবি
পেটের ভেতর জমা হওয়া টক অ্যাসিড যখন উল্টো পথে খাদ্যনালিতে উঠে আসে, তখন মানুষ তাকে চেনে ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ বা সাধারণ অ্যাসিডিটি নামে। এই রোগের কবলে পড়লে বুক জ্বালাপোড়া আর পেট ফাঁপার মতো যন্ত্রণায় ছটফট করেন অনেক রোগী।
মুখে টক স্বাদ আসা কিংবা বমি বমি ভাব হওয়া এই সমস্যার অন্যতম প্রধান উপসর্গ। মশলাদার খাবার বা দুশ্চিন্তাকে মানুষ সাধারণত দায়ী করলেও সকালের নাশতা না খাওয়ার অভ্যাসটি বাড়িয়ে দেয় এই বিপদ সমানভাবে।
রাতের ৮-১০ ঘণ্টার লম্বা বিরতির পর পাকস্থলী অপেক্ষায় থাকে সকালের খাবারের। পেটে খাবার না পড়লে শরীরের সেই পাচক অ্যাসিডগুলো ক্ষত তৈরি করে পাকস্থলীর নরম আবরণে। একটি স্বাস্থ্যকর নাশতা পেটে পড়লে তা শান্ত করে দেয় শরীরের এই ক্ষতিকর অ্যাসিডকে খুব সহজেই।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিয়মিত নাশতা খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ভেতরের ঘড়িকে সচল রাখে একদম নিখুঁতভাবে। সকালের নাশতা বাদ দিলে পাকস্থলীর স্বাভাবিক পরিপাক ক্রিয়া বাধা পায় ভীষণভাবে।
খাবার ছাড়াই পেটের ভেতর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি হতে থাকলে তা বাড়িয়ে দেয় পেটের ভেতরের জ্বালাপোড়া। ক্ষুধার জ্বালায় পাকস্থলী যখন সংকুচিত হতে থাকে, তখন অ্যাসিডগুলো ধাক্কা মারে সরাসরি আমাদের বুকের দিকে।
অনিয়মিত খাওয়ার এই অভ্যাস শরীরের মেটাবলিজম বা হজম শক্তিকে কমিয়ে দেয় আশঙ্কাজনক হারে। সময়মতো পেটে দানা না পড়লে গ্যাস্ট্রাইটিসের মতো জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে আপনার শরীরে চিরতরে।
বুক ধড়ফড় করা কিংবা পেটে ভারী ভাব হওয়াকে উপেক্ষা করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মুখে তেতো স্বাদ পাওয়া কিংবা খাবারে অরুচি হওয়া জানান দেয় আপনার পেটের ভেতরের অসুস্থতার কথা।
এসব লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে আপনাকে বদলাতে হবে সকালের নাশতার পুরনো রুটিন। পাকস্থলীর এই বিপদ এড়াতে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে পেটে কিছু দেওয়া জরুরি।
ওটস, ডিম বা ফলের মতো হালকা খাবার বেছে নিলে হজম প্রক্রিয়া চলে একদম আরামদায়কভাবে। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করলে তা ধুয়ে মুছে দেয় পেটের ভেতরের সব আবর্জনা। খালি পেটে চা বা কফি পানের অভ্যাসটি আপনার পেটে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বহু গুণ।
খাদ্যাভ্যাসে ছোটখাটো বদল আনলে অ্যাসিডিটির মতো কষ্টদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় অনেকটাই। তবে খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া কিংবা ওজন হুট করে কমে যাওয়া মোটেও হেলাফেলার বিষয় নয়। এমন সব বড় লক্ষণ দেখা দিলে আপনাকে পরামর্শ নিতে হবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে অবিলম্বে।
অফিসের ব্যস্ততায় সকালের নাশতা বাদ দেওয়াকে অনেকে বীরত্ব মনে করলেও এটি আসলে ডেকে আনে বড় রোগ। পেটের শান্তির জন্য সকালের সময়টি বরাদ্দ রাখলে সারা দিন কাটবে আপনার ফুরফুরে আর সতেজ মেজাজে।
শরীরের মেশিন ঠিকঠাক চালাতে হলে সকালে জ্বালানি হিসেবে সুষম খাবারের কোনো বিকল্প নেই।




