মস্তিষ্কের ক্ষতি এড়াতে ছাড়ুন এই ১১ অভ্যাস

সংগৃহীত ছবি
বাইরে না গিয়ে অন্ধকার ঘরে একা থাকা কিংবা সারাক্ষণ কানে হেডফোন গুঁজে রাখা—শুনতে আরামদায়ক মনে হলেও এগুলো আপনার মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ‘স্লো পয়জন’। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য এখনই বদলানো জরুরি কিছু অভ্যাস।
জেনে নেওয়া যাক এমন ১১টি ক্ষতিকর অভ্যাস
১. ঘুমের অভাব
প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। ঘুমের ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি কমে যায় এবং ভবিষ্যতে অ্যালঝেইমার্সের ঝুঁকি বাড়ে।
২. সকালের নাস্তা না খাওয়া
সারা রাত না খেয়ে থাকার পর মস্তিষ্কের জ্বালানি আসে সকালের নাস্তা থেকে। এটি বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস পায়।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করা
মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫ শতাংশই পানি। পানি কম খেলে মস্তিষ্কের টিস্যু সংকুচিত হয় এবং চিন্তাশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. অতিরিক্ত মানসিক চাপ
নিয়মিত স্ট্রেস বা অসুস্থ অবস্থায় কাজ করলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
৫. অলস জীবনযাপন
শরীরচর্চার অভাবে মস্তিষ্কেও প্রভাব পড়ে। নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
৬. প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
ছোটখাটো তথ্য বা হিসাবের জন্য সবসময় প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলে মস্তিষ্কের নিজস্ব চিন্তাশক্তি কমে যায়।
৭. হেডফোনে উচ্চশব্দে গান শোনা
দীর্ঘ সময় উচ্চ ভলিউমে গান শোনা শ্রবণশক্তির পাশাপাশি মস্তিষ্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৮. একাকীত্ব
দীর্ঘ সময় একা থাকলে বিষণ্নতা বাড়ে এবং মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।
৯. নেতিবাচক চিন্তা
নিজেকে ছোট করে দেখা বা হতাশা মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ইতিবাচক চিন্তা মানসিক সুস্থতার জন্য জরুরি।
১০. অন্ধকার ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা
সূর্যালোকের অভাবে মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে।
১১. ভুল খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড ও দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারলে মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন সুস্থ ও কার্যকর রাখা সম্ভব। ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় প্রভাব ফেলতে পারে আমাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

