গরমের অন্দরসজ্জা

সংগৃহীত ছবি
গ্রীষ্ম আসন্ন। বাহিরে যখন তাপদাহ, তখন প্রশান্তির একমাত্র ঠিকানা হয়ে উঠে নিজের ঘর। কিন্তু অন্দরমহলের পরিবেশ যদি বেশি জমকালো আর ভারী হয়ে থাকে, তবে ঘরে ফিরেও ক্লান্তি আর গরম দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাই এই মৌসুমে ঘরকে শীতল, সতেজ এবং দৃষ্টিনন্দন রাখতে অন্দরসজ্জায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
বাইরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে না থাকলেও, ঘরের ভেতরের পরিবেশকে কিন্তু আমরা চাইলেই করে তুলতে পারি আরামদায়ক ও শান্ত। কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন আর নান্দনিক ছোঁয়ায় আপনার অন্দরমহল হয়ে উঠতে পারে এক টুকরো শীতল বাগান।
বসন্ত প্রায় শেষ হতে চলছে। তাই গরমের প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই। গরমের পূর্বাভাসে বিচলিত না হয়ে আজ যেনে নেওয়া যাক কেমন হওয়া চাই গ্রীষ্মের অন্দরসজ্জা।
সঠিক রঙ বাছাই
গরমের সময় মনের আরামের জন্য চোখের আরামও জরুরি। তাই দেয়াল, পর্দা কিংবা আসবাবের কভারে বদল আনতে হবে। চাইলে বর্ষার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ঘরের দেওয়ালে আবার রঙ করিয়ে নেওয়া যায়। অন্দরসজ্জায় গাঢ় রঙের বদলে বেছে নিন হালকা শেড। সাদা, অফ-হোয়াইট, গোলাপী ইত্যাদি। ধুলো জমে গিয়ে ময়লা হয়ে যাবে, সেই ভয় থাকে অনেকের।
চাইলে সাদা কিংবা অফ হোয়াইটের পরিবর্তে বেছে নিতে পারে প্যাস্টেল ব্লু, মিন্ট গ্রিন বা লেমন ইয়লোর মতো রঙও। হালকা রং ঘরকে শুধু বড়ই দেখায় না, বরং হালকা রঙ তাপ শোষণও কম করে। ঘরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।
ফেব্রিক নির্বাচন
গ্রীষ্মকালীন অন্দরসজ্জায় ফেব্রিক নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। সিনথেটিক বা সিল্কের পরিবর্তে বিছানায় ব্যবহার করুন শতভাগ সুতি বা লিনেন চাদর। লিনেনের বুনন বাতাস চলাচল করতে সাহায্য করে যা ত্বকের সংস্পর্শে এলে অস্বস্তি লাগবে না বরং শীতল অনুভূতি দেবে। ভারী সিল্ক বা গরদের পর্দা নামিয়ে রাখুন। জানালার পর্দার ক্ষেত্রেও বেছে নিন হালকা ও পাতলা সুতি কাপড়।
তবে সরাসরি কড়া রোদ আটকাতে ভেতরের দিকে ঘন বুননের 'ব্ল্যাকআউট' পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্দরে সবুজের সমারোহ
ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো গাছ। বসার ঘরের কোণে বা জানালার পাশে স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা, স্পাইডার প্ল্যান্ট বা মানিপ্ল্যান্টের মতো ইনডোর প্ল্যান্ট রাখুন। এগুলো বাতাস বিশুদ্ধ করার পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে ঘরের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমিয়ে দেয়।
ছোট টেবিল বা বারান্দার কোণে ঝুলন্ত ঝুড়িতে লতা-জাতীয় গাছও ঘরের সতেজতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এসব ইনডোর প্লান্ট রক্ষণাবেক্ষণও সহজ হয়। অনেক মানিপ্ল্যান্ট আছে, যা পানিতে রাখলেই চলে। মাটির প্রয়োজন পড়ে না।
আসবাবে থাকুক হালকা ভাব
ভারী ও গুমোট কাঠের আসবাব ঘরকে ঘিঞ্জি করে তোলে। গরমের এই সময়ে ঘর যত সম্ভব ফাঁকা ও ছিমছাম রাখুন। অপ্রয়োজনীয় আসবাব সরিয়ে ফেলে হাওয়া-বাতাস চলাচলের উপযোগী করে তুলুন। আসবাবের ক্ষেত্রে বেত, বাঁশ বা পাটের তৈরি ম্যাটের ব্যবহার অন্দরে একটি প্রাকৃতিক ও মাটির ঘ্রাণ নিয়ে আসবে, যা গরমের ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক।
আলোর কারসাজি ও সুগন্ধি
তীব্র উজ্জ্বল আলো ঘর আরও গরম করে তোলে। দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন। আর রাতে ব্যবহার করুন কম তাপ উৎপাদনকারী এলইডি বা হালকা শেডের ল্যাম্পশেড।
সেইসঙ্গে ঘরে ইউক্যালিপটাস, ল্যাভেন্ডার বা পুদিনার মতো এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করলে ঘরের গুমোট ভাব কেটে গিয়ে প্রশান্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।
বারান্দায় এক চিলতে সুখ
দিনের শেষে একটুখানি খোলা হাওয়ার জন্যই হোক কিংবা ছোট টি-পার্টির আয়োজন করার জন্যই হোক, বারান্দাই আমাদের পরম বন্ধু। গরমের আগে বারান্দার মেঝেতে শীতল পাটি বা হালকা সুতি ম্যাট বিছিয়ে দিতে পারেন। বেতের মোড়া আর মৃদু ল্যাম্প সেডের সাজে সন্ধ্যার বারান্দা হয়ে উঠতে পারে আড্ডার সেরা জায়গা।
রোদ কমাতে বারান্দায় বাঁশের চিক ব্যবহার করতে পারেন, যা একদিকে দেখতে যেমন নান্দনিক আবার অন্যদিকে রোদের তীব্রতে আটকাতেও কার্যকরী।

