চকলেটপ্রেমীদের জন্য আজ আলাদা দিন

সংগৃহীত ছবি
চকলেট খেতে কি আর বিশেষ দিনের অপেক্ষা লাগে? চকলেটপ্রেমীদের কাছে প্রিয় এই খাবার যেকোনো সময়ই উপভোগ্য। তবু ভালোবাসার মাস ফেব্রুয়ারিতে চকলেটকে ঘিরে আলাদা এক উন্মাদনা তৈরি হয়। কারণ ভ্যালেন্টাইনস উইকের অন্যতম বিশেষ দিন আজ ‘চকলেট ডে’। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা প্রকাশের প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে এই মিষ্টিমধুর দিনটি।
ভ্যালেন্টাইনস উইকের সাত দিনের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে চকলেট ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনে প্রিয়জনকে চকলেট উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন অনেকে। সম্পর্কের মিষ্টতা বাড়াতে তাই চকলেটই হয়ে ওঠে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম।
চকলেটের ইতিহাস কিন্তু খুব সাধারণ নয়। প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এই খাবারের গল্প শুরু হয়েছিল তেতো স্বাদের এক পানীয় দিয়ে। প্রাচীন মায়ান ও আজটেক সভ্যতায় কোকোবীজ থেকে তৈরি সেই পানীয় ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, কোকোবীজকে তখন মুদ্রা হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। ওইসব সভ্যতায় কোকোবীজের ছিল ধর্মীয় গুরুত্ব, তারা বিশ্বাস করত এতে রয়েছে রহস্যময় শক্তি।
পরবর্তীতে স্প্যানিশদের হাত ধরে চকলেটের স্বাদে আসে বড় পরিবর্তন। তারাই প্রথম কোকোর সঙ্গে মধু ও চিনি মিশিয়ে একে মিষ্টি খাবারে রূপ দেন। এরপর চকলেট ইউরোপে পৌঁছায় এবং ধীরে ধীরে অভিজাত সমাজের বিলাসী খাদ্যে পরিণত হয়। সে সময় চকলেট ছিল ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার প্রতীক, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।
ইউরোপে চকলেটের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বাণিজ্যিক কোকো চাষ। কোকোবীজ উৎপাদনের জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করে ইউরোপীয় শক্তিগুলো। এরপর ১৮২০ সালের দিকে কোকো প্রেস যন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে কোকোবীজ থেকে সহজে পাউডার তৈরি সম্ভব হয়। এতে চকলেট ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়।
১৮৪৮ সালে বাজারে আসে প্রথম শক্ত চকলেট বার। এরপর থেকেই নানা স্বাদ, আকার ও উপস্থাপনায় চকলেট বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে।















