আগামীর সময়

চুল কেন পড়ে, সমাধান কী?

চুল কেন পড়ে, সমাধান কী?

সৌন্দর্য তো বটেই নয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে চুল। প্রায় সবারই একটি সাধারণ সমস্যা চুল পড়া। আঁচড়াতেই গোছা গোছা উঠে আসা চুল, গোসলের পর ড্রেনে জমে থাকা চুল শুধু বাহ্যিক নয়, মানসিক চাপও তৈরি করে। তবে কারণ বুঝে সঠিকভাবে যত্ন নিলে চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

প্রতিদিন ৫০-১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কারণ চুলের নিজস্ব একটি গ্রোথ সাইকেল থাকে। কিছু চুল ঝরে পড়ে, আবার নতুন চুল গজায়। কিন্তু যদি হঠাৎ করে চুল পড়া বেড়ে যায়, চুলের ঘনত্ব চোখে পড়ার মতো কমে যায়, মাথার তালু দেখা যেতে শুরু করে— তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

চুল পড়ার প্রধান কারণ

স্ট্রেস ও মানসিক চাপ

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ চুলের বৃদ্ধির চক্রকে বিঘ্নিত করে। এতে অনেক চুল একসঙ্গে ‘রেস্টিং ফেজে’ চলে যায় এবং কিছুদিন পর একসঙ্গে ঝরে। পরীক্ষার চাপ, কাজের চাপ, সম্পর্কজনিত সমস্যা এসবও চুল পড়ার কারণ।

পুষ্টির অভাব

চুল মূলত প্রোটিন (কেরাটিন) দিয়ে তৈরি। তাই খাদ্যে ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রোটিনের অভাবে চুল পাতলা হয়ে যায়। আয়রনের অভাবে চুল বেশি ঝরে পড়ে এবং ভিটামিন ডি ও বি১২ ঘাটতিতে চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। এছাড়া যারা নিয়মিত ডায়েট করেন বা অনিয়মিত খান, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

হরমোনাল পরিবর্তন

শরীরের হরমোনের ওঠানামা সরাসরি চুলের ওপর প্রভাব ফেলে। কারো থাইরয়েডে সমস্যা থাকলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। পিসিওস থাকলে (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম) মেয়েদের ক্ষেত্রে চুল পড়া বাড়ে। প্রসবের পর হরমোন হঠাৎ কমে যাওয়ায় কয়েক মাস চুল বেশি পড়ে। এসব ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক যত্নে সমাধান হয় না, চিকিৎসা প্রয়োজন।

ভুল হেয়ার কেয়ার

অনেক সময় আমরা নিজেরাই চুলের ক্ষতি করি। অতিরিক্ত হিট (স্ট্রেইটনার, কার্লার), ঘন ঘন রঙ করা বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, ভেজা চুল শক্ত করে বাঁধা, শক্ত করে পনিটেইল বা খোঁপা ইত্যাদি। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হয় ও ব্রেকেজ বাড়ে।

পানি ও পরিবেশ

ধুলা-ময়লা তালুতে জমে গিয়ে চুলের রুট বন্ধ করে দেয়। পানিতে থাকা আয়রন চুলকে রুক্ষ করে তোলে, এছাড়া রোদ ও ঘামে চুল শুকনো ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।

কীভাবে কমাবেন

সুষম খাবার

চুলের স্বাস্থ্য শুরু হয় মূলত খাবারের পাত থেকে। ভেতর থেকে পুষ্টি না পেলে বাইরে যতই যত্ন নিন, কাজ হবে না। প্রতিদিন ডিম, মাছ, ডাল রাখুন। শাকসবজি ও ফল খান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

নিয়মিত তেল ব্যবহার

তেল তালুতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও চুলের গোড়া মজবুত করে। নারকেল তেল চুল নরম রাখে, আমলকি তেল চুল পড়া কমাতে সহায়ক। ভৃঙ্গরাজ চুল ঘন করতে সাহায্য করে। তাই সপ্তাহে ২-৩ দিন হালকা ম্যাসাজ করুন।

সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার

সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। খুব বেশি ঘন ঘন শ্যাম্পু করবেন না (সপ্তাহে ২-৩ বার যথেষ্ট)। কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল কম জট পড়ে।

হিট ও কেমিক্যাল কমান

স্টাইলিংয়ের জন্য মাঝে মাঝে হিট ব্যবহার করলেও নিয়মিত করা ক্ষতিকর। প্রয়োজনে হিট প্রোটেক্টর ব্যবহার করুন। কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট থেকে বিরতি নিন, স্ট্রেস ম্যানেজ করুন। চুলের জন্য শুধু তেল বা শ্যাম্পু নয় মনের যত্নও জরুরি।

নিয়মিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম, মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে মন থাকে ফুরফুরা। মন ভালো থাকলে চুলও ভালো থাকে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

হঠাৎ করে অস্বাভাবিক চুল পড়লে, মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় টাক পড়লে, তালুতে চুলকানি, খুশকি বা ইনফেকশন দিলে ও দীর্ঘদিনেও সমস্যা না কমার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    শেয়ার করুন: