কম খরচে ঈদের কেনাকাটা করবেন যেভাবে

একসঙ্গে পরিবারের সবার কেনাকাটা করলে সাশ্রয় হয়। ছবি: এআই
ঈদ আসছে। কেনাকাটা তো করতেই হবে। বাজেট কম কিংবা বাজেট বাঁচিয়ে অন্যকিছু করার ইচ্ছে। তাহলে উপায়? সেটাও আছে। একটু কষ্ট করে নানান মার্কেট ঘুরে ঘুরে দরদাম করে পছন্দের সেরা পণ্যটি বেছে নেওয়া।
সময় নির্বাচন
উৎসবের মৌসুমে বিক্রেতারা সাধারণত পোশাকের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে বলেন। এই বাড়তি দামের ফাঁদ এড়ানোর প্রথম কৌশল হলো সময় নির্বাচন। রমজানের শেষ দিকে বাজারের ভিড় যখন চরমে ওঠে, তখন বিক্রেতারা দাম কমাতে চান না। তাই রোজা শুরুর আগে বা প্রথম পনেরো দিনের মধ্যে কেনাকাটা সেরে ফেললে অনেক কম দামে ভালো মানের কাপড় বা অন্যান্য অনুষঙ্গ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বড় শপিং মলগুলোর তুলনায় নিউ মার্কেট, মৌচাক, চাঁদনী চক, গাউছিয়া, কৃষি মার্কেট বা সদরঘাটের মতো ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোতে ভালো মানের জামা-কাপড় অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডের ট্যাগহীন এসব পণ্যের গুণমান যাচাই করার দক্ষতা থাকলে বাজেট অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব।
দরদাম
ঈদের বাজারে দরদাম করা একটি প্রয়োজনীয় কৌশল। বিক্রেতা যখন কোনো পোশাকের দাম আকাশচুম্বী বলেন তখন প্রথমেই আপনার পক্ষ থেকে একটি পছন্দসই দাম প্রস্তাব করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতারা যা দাম হাকেন, তার অর্ধেক বা তার চেয়েও কম দামে কেনা সম্ভব হয়। তবে দামাদামির সময় পোশাকের মান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। কাপড়টি সুতি, লিনেন নাকি জর্জেট, সেটি চিনতে পারলে বিক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষিতে সুবিধা হয়। দামাদামির সময় নিজের আগ্রহ খুব বেশি প্রকাশ না করাই ভালো; বরং কাপড়টি পছন্দ হলেও দাম বেশি মনে হলে অন্য দোকানে চলে যাওয়ার ভঙ্গি করলে অনেক সময় বিক্রেতা নিজেই ডেকে দাম কমিয়ে দেন।
ডিসকাউন্টে নজর রাখা
সাশ্রয়ী কেনাকাটার আরেকটি কার্যকর দিক হলো অফ-লাইন বা অনলাইন ডিসকাউন্টগুলোর দিকে নজর রাখা। অনেক সময় বড় বড় ব্র্যান্ড বা বুটিক শপগুলো ঈদ উপলক্ষে স্টক ক্লিয়ারেন্স সেল দিয়ে থাকে, যেখানে গত সিজনের ভালো মানের পোশাকও কম দামে পাওয়া যায়। এছাড়া বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সরাসরি কারখানা থেকে পণ্য সরবরাহ করেন। শোরুমের অতিরিক্ত ভাড়া বা ডেকোরেশন খরচ না থাকায় তারা বেশ কম দামে ভালো কাপড় বিক্রি করতে পারেন। তবে অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের রিভিউ এবং কাপড়ের ম্যাটেরিয়াল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি। লাইভ সেশন দেখে বা পরিচিত পেজ থেকে কিনলে অনেক সময় মার্কেটে যাওয়ার ভোগান্তি ছাড়াই সাশ্রয়ীমূল্যে কেনাকাটা করা সম্ভব।
প্রাধান্য ঠিক করা
কেনাকাটার তালিকায় প্রাধান্য ঠিক করাও বাজেট নিয়ন্ত্রণের বড় উপায়। ঈদের বাজারে শুধু চটকদার পোশাক নয়, বরং জুতো, গয়না কিংবা কসমেটিকসের দামও হুহু করে বাড়ে। অভিজ্ঞ ক্রেতারা তাই পোশাক কেনা শেষ করেই আনুষঙ্গিক জিনিসগুলো পাইকারি মার্কেট যেমন- চকবাজার থেকে সংগ্রহ করেন। বড় শপিং মলগুলো থেকে একটি লকেট বা একজোড়া কানের দুল যে দামে কেনা হয়, একই জিনিস সাধারণ মার্কেটে প্রায় অর্ধেক দামে পাওয়া যায়। উৎসবের কেনাকাটায় ছোটখাটো এসব খরচ যখন এক করা হয়, তখন দিনশেষে দেখা যায় একটি বড় অংকের টাকা বেঁচে গিয়েছে। পরিবারের সবার জন্য আলাদাভাবে না কিনে একত্রে বড় বাজারগুলো থেকে কেনাকাটা সারলে যাতায়াত খরচ যেমন কমে, তেমনি বিক্রেতার কাছ থেকে বড় অংকের মূল্যছাড়ও পাওয়া যায়।
গজ কাপড়ে পোশাক বানিয়ে নিন
বাজেট ঠিক রাখতে তৈরি পোশাকের চেয়ে গজ কাপড় কিনে দর্জি দিয়ে বানিয়ে নেওয়া অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও রুচিশীল। রেডিমেড পোশাকে সাধারণত ফেব্রিক বা সেলাইয়ের মান নিয়ে কিছুটা ঝুঁকি থাকে, কিন্তু নিজের পছন্দে গজ কাপড় কিনে বানালে সাশ্রয়ের পাশাপাশি পোশাকের স্থায়িত্বও নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন পাইকারি বাজারে দলগতভাবে কেনাকাটা করলে পাইকারি দামে কাপড় কেনা যায়। এতেও সাশ্রয় হয়।

