শিশুদের বন্ধু 'দাদাভাই'

আগামীর সময় গ্রাফিক্স
বাক বাক্ কুম পায়রা
মাথায় দিয়ে টায়রা
বউ সাজবে কাল কি
চড়বে সোনার পালকি
এই ছড়াটি হয়তো তোমরা সবাই শুনেছ। কিন্তু এর লেখক কে জানো? তিনি রোকনুজ্জামান খান, আমাদের সবার প্রিয় ‘দাদাভাই’। আজ সেই কিংবদন্তি মানুষটির ১০১তম জন্মদিন।
দাদাভাই ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। দৈনিক ইত্তেফাকের ছোটদের পাতা কচি-কাঁচার আসর যখন তিনি পরিচালনা করতেন, তখনই সবাই তাকে ‘দাদাভাই’ নামে ডাকতে শুরু করে। আর এই নামটাই চিরদিনের মতো তার পরিচয় হয়ে যায়।
শিশুদের জন্য তিনি শুধু লেখা-গল্পই করেননি, তৈরি করেছিলেন এক অসাধারণ শিশু সংগঠন, কচি-কাঁচার মেলা। দেশের নানা প্রান্তে তার হাতে গড়ে উঠেছিল এই মেলার শাখা। ঢাকায় ছিল এর মূল কেন্দ্র। এখানে শিশুরা গান শিখত, আবৃত্তির অনুশীলন করত, ছবি আঁকত, গল্প লিখত। সব মিলিয়ে ছিল এক আনন্দভরা শেখার জায়গা। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘কাকলী পাঠাগার’।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কচি-কাঁচার মেলার অফিসে হামলা চালায়। দাদাভাইয়ের স্বপ্নের জায়গাটিও যুদ্ধের আগুনে রক্ষা পায়নি।
শিশুদের জন্য তার লেখা বইগুলো আজও একইভাবে জনপ্রিয়। হাট্টিমাটিম টিম, খোকন খোকন ডাক পাড়ি, আজব হলেও গুজব নয়সহ আরও অনেক বই। ছোটদের প্রথম লেখা তুলে ধরতে তিনি সম্পাদনা করেছেন আমার প্রথম লেখা, ঝিকিমিকি, বার্ষিক কচি ও কাঁচা, ছোটদের আবৃত্তিসহ বহু বই।
ব্যক্তিগত জীবনে রোকনুজ্জামান বিয়ে করেন নূরজাহান বেগমকে, যিনি সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক ও সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা।
দাদাভাইয়ের সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতিও কম নয়। তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), শিশু একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৪), একুশে পদক (১৯৯৮), জসীমউদদীন স্বর্ণপদকসহ রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ও রোটারি ফাউন্ডেশন ট্রাস্টির পল হ্যারিস ফেলো সম্মান।
শিশুদের লেখা তিনি নিজ হাতে ঠিক করে দিতেন, সাহস দিতেন, লিখতে উৎসাহিত করতেন। তার আদর আর পরামর্শে বড় হয়ে ওঠা অনেক শিশুই পরে লেখক হয়। তিনি কচি ও কাঁচা নামে একটি মাসিক পত্রিকাও সম্পাদনা করতেন।
দাদাভাই শুধু একজন লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিশুদের বন্ধু, পথপ্রদর্শক, স্বপ্ন দেখানো এক মানুষ। আজ তার জন্মদিনে আমরা আবারও মনে করি, ছোটদের জন্য ভালো কিছু করতে চাইলে দাদাভাইয়ের মতো মানুষরাই পথ দেখান।















