আকাশছোঁয়া দোলনায় রোমাঞ্চ

নেপালে এমন একটি দোলনা আছে, যেটিতে চড়লে মনে হবে আকাশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। রোমাঞ্চকর সেই অনুভূতির গল্প শুনিয়েছে সাবিলা শারলিজ সাজ্জাদ
কুশমা। নেপালের পোখরা জেলার একটি ছোট শহর। সুইং ও বাঞ্জি জাম্পিং স্পট হিসাবে বিখ্যাত। ২২৮ মিটার বা ৭৪৮ ফুট উচ্চতা থেকে ঝুলে থাকা এ দোলনা বা সুইং রোমাঞ্চপ্রেমীদের কাছে সত্যিই স্বপ্নের মতো! দোলনাটি ‘দ্য ক্লিফ রিসোর্ট’ নামের একটি রিসোর্টের অংশ। চাইলে সেখানে রাতও কাটানো যায়।
আমরা পোখরায় গিয়েছিলাম। সেখান থেকে গাড়িতে দুই ঘণ্টার পথ কুশমা। শুরুতে আমাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো একটি সম্মতিপত্র। আমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাবা-মায়ের স্বাক্ষরেরও প্রয়োজন পড়ল।
প্রথমে বাঞ্জি জাম্প দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম আমি। কিন্তু বয়স মাত্র ১৪ হওয়ায়, মা-বাবা রাজি থাকলেও আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারণ বাঞ্জি জাম্প দেওয়ার জন্য অন্তত ১৫ বছর বয়সী হতে হয়।
জাম্প দিতে না পেরে একটু মন খারাপ হলো আমার। তখন ওখানকার কর্মীরাই আমাকে সুইং করার পরামর্শ দিলেন। রাজি হয়ে গেলাম।
আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো অ্যাকটিভিটি জোনে। সেখানে পৌঁছতে একটি ঝুলন্ত সেতু পার হতে হয়েছিল। সেটিও ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
কর্মীরা আমাকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিয়ে দিতেই সত্যি সত্যিই খুব ভয় হলো আমার। তবু সাহস করে এগিয়ে গেলাম।
দোলনার কিনারে গিয়ে নিচে তাকাতেই বুকের ভেতরটা আবারও ধক করে উঠল! অনেক নিচে বয়ে চলেছে একটি নদী। মাঝখানে আর কিছুই নেই— একদম ফাঁকা।
আমি প্রস্তুত কি না, জানতে চাইলেন তারা। সাহস সঞ্চয় করে ‘হ্যাঁ’ বললাম। মুহূর্তের মধ্যেই তারা দড়ি ছেড়ে দিলেন।
তারপর... যেন শূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
চারপাশে বাতাসের গর্জন। বুক কাঁপানো এক পতনের মধ্যে আমি। ভয় আর উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠেছিলাম। পুরো সময় একজন আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার আমার প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন।
প্রায় পাঁচ সেকেন্ড ধরে চলল এই মুক্ত পতনের অনুভূতি। এরপর শুরু হলো বিশাল দোলনার মতো দুলতে থাকা। প্রায় এক মিনিট ধরে চলল সেই দোল। নদীর কাছাকাছি অবস্থান করলাম আরও দুই মিনিটের মতো। তারপর ধীরে ধীরে আমাকে ওপরে তুলে আনা হলো।
ওপরে উঠে নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না— আমি পেরেছি!
ভয়, উত্তেজনা আর আনন্দ— সব মিলিয়ে এটি এক অবর্ণনীয় অনুভূতি। আমি মনে করি, নেপাল ভ্রমণে যারা যান, তারা যেন এই অ্যাডভেঞ্চারের জন্য অন্তত একটি দিন আলাদা করে রাখেন। কে জানে, হয়তো আপনিও অনুভব করবেন— আকাশ ছুঁয়ে ফেলার সেই রোমাঞ্চ!
জেনে রাখুন
রিসোর্টের রিসেপশন থেকেই বুকিং করা যায়, আবার কোনো ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমেও করা সম্ভব। গন্তব্যে পৌঁছে প্রথমে বুকিং কাউন্টারে যেতে হয়। যদি আপনার সঙ্গে এমন কেউ থাকেন, যিনি শুধু দেখবেন কিন্তু কোনো অ্যাকটিভিটিতে অংশ নেবেন না, তাহলে তার জন্য আলাদা টিকিট কিনতে হবে। টিকিটের দাম ৫০০ নেপালি রুপি। আমার সঙ্গে বাবা-মা ছিলেন, তাই তাদের জন্যও টিকিট নিতে হয়েছিল।
ভিডিও, ছবি এবং একটি টি-শার্টসহ পুরো প্যাকেজের দাম পড়েছিল ৯৫০০ নেপালি রুপি।






