বিজ্ঞান কল্পকাহিনি
‘ফলআউট’

সায়েন্স ফিকশন (সাইফাই) ঘরানার অনুরাগীদের কাছে ‘ফলআউট’ নামটি বেশ পরিচিত। জনপ্রিয় ভিডিও গেম ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত এই লাইভ-অ্যাকশন সিরিজ মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই সিরিজে পারমাণবিক যুদ্ধের পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া পৃথিবী, মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই এবং সভ্যতার অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। চমৎকার বিশ্বনির্মাণ, ব্যতিক্রমী চরিত্র, ডার্ক কমেডি ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গের সমন্বয়ে ‘ফলআউট’ পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক সাইফাই ঘরানায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। সিরিজটির গল্পে ১৯৫০-এর দশকের রেট্রো-ফিউচারিস্টিক সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির কল্পনার সঙ্গে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা মিশে গেছে। এই জগতে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটলেও মানবসভ্যতা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ এক পারমাণবিক যুদ্ধের মুখে পড়ে। বিপর্যয়ের পর পৃথিবীর বড় একটি অংশ পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। বেঁচে থাকা মানুষের কেউ আশ্রয় নেয় মাটির নিচে নির্মিত বিশাল ভল্টে, আবার কেউ টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে থাকে বিষাক্ত ও বিপজ্জনক উন্মুক্ত পৃথিবীতে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র লুসি ম্যাকলিন। ভল্টের ভেতরে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা লুসির জীবন বদলে যায়, যখন তাকে ভল্ট ছেড়ে বাইরের পৃথিবীতে পা রাখতে হয়। এতদিন যে পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণা ছিল সীমিত, বাস্তবে সেই জগৎ তার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি নিষ্ঠুর। বেঁচে থাকার তাগিদে তাকে নিজের বিশ্বাস, নৈতিকতা এবং মানুষের প্রতি আস্থাকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলতে হয়। তার এই যাত্রার মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর বাস্তবতা।



