সাংস্কৃতিক বর্বরতা!

নেদারল্যান্ডসের ঐতিহাসিক শহর হারলেমে পিটার ডে ভ্রিসের পুরনো বইয়ের দোকান। দোকান জুড়ে সাজানো শত শত বছরের পুরনো মানচিত্র, দুর্লভ অলংকরণ, প্রথম সংস্করণের বই আর ইতিহাসের দলিল। সেখানে ঢুকলে যেন থমকে যায় সময়। সেই দোকানের একপাশে বসে থাকেন পিটার ডে ভ্রিস। কোনো দিন দু-একজন ক্রেতা আসেন, বিক্রি হয় দু-একটি বই। আবার কোনো দিন কাটে নীরব পরিবেশে, একা।
জুনের মাঝামাঝি এমন এক নীরব দুপুরে হঠাৎ একটি ইমেইল আসে তার কাছে। ‘টু জিরো সেভেন সেভেন এআই’ নামে একটি কোম্পানির প্রতিনিধি নিজেকে ‘নাটালি’ পরিচয় দিয়ে তাকে প্রায় তিন হাজার বইয়ের একটি তালিকা পাঠান। তাতে লেখা ছিল, বিভিন্ন ভাষার বই সংগ্রহের একটি নতুন প্রকল্পের জন্য তারা বড় পরিসরে বই কিনতে চান। এত বড় অর্ডারের কথা শুনে তিনি ভেবেছিলেন এটি স্প্যাম মেইল। তবে সেই মেইলটি তাকে বিশ্বের প্রযুক্তি খাতের এক বিতর্কিত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। পরে তিনি জানতে পারেন, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত বিরল বই বিক্রেতার সঙ্গে একইভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন কোম্পানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ পুরনো ও ব্যবহৃত বই সংগ্রহ করছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ফোর জিরো ফোর মিডিয়া’ প্রথম এই গোপন প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ করে। তাতেই জানা যায়, বইগুলো উচ্চগতির যন্ত্রে স্ক্যান করার আগে মলাট কেটে ফেলা হয়, এরপর মূল কপিগুলো গুঁড়ো করে ধ্বংস করা হয়।






