বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ: বাছাই পরীক্ষায় ৫২ হাজার তরুণ-তরুণী

ছবি: ইমরানুর রহমান
দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল ও কর্মক্ষম করে তুলতে দেশব্যাপী একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৮ম ব্যাচের লিখিত বাছাই পরীক্ষা। শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় সারাদেশের ৫২ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবাদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুরো প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। এতে প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না।
আবেদন ও আসন বিন্যাস
এবারের ৮ম ব্যাচে মোট ৪ হাজার ৮০০টি শূন্য আসনের বিপরীতে সারাদেশে মোট ৮১ হাজার ৪০০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরবর্তীতে নিবিড় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ৫২ হাজার ২০০টি আবেদন বৈধ বলে গণ্য করা হয় এবং আজ তাদের অংশগ্রহণে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হলো।
কেন্দ্র পরিদর্শন ও তদারকি
পরীক্ষা চলাকালীন রাজধানীর কল্যাণপুরে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র সরাসরি পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। এ সময় শুধু কল্যাণূপরেই প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এছাড়া দেশের বাকি জেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিক পরীক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে তদারকি করেন।
পরবর্তী ধাপ ও ফলাফল
মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়ে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
চূড়ান্ত নির্বাচন: মৌখিক পরীক্ষার পর মেধার ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে নির্দিষ্ট ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন তরুণ-তরুণীকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হবে, যারা পরবর্তীতে ৮ম ব্যাচের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সাফল্যের ঈর্ষণীয় চিত্র
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের পূর্ববর্তী ব্যাচগুলোর অর্জন বেশ আশাব্যঞ্জক। এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ বা ১২ হাজার ৩৫৪ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে নিজেদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। সফল এই ফ্রিল্যান্সারদের সম্মিলিত অর্জন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকার সমান।
দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই ব্যাপক আগ্রহ এবং সফলতার গ্রাফ ভবিষ্যতে বেকারত্ব দূরীকরণে এক বিশাল মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



