দুই সূর্যের পৃথিবী সম্ভব?

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি
সায়েন্স ফিকশন মুভিতে দুই বা ততোধিক সূর্যের আকাশের দৃশ্য দেখে আমাদের সবারই চোখ কপালে ওঠে। স্টার ওয়ার্সের মতো কল্পজগতেই কেবল এমন দৃশ্য মানায়—এমনটাই এতদিন ভেবে আসছিলেন অনেকে। কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দুটি সূর্য বা বাইনারি নক্ষত্র সিস্টেমের অঞ্চলেও এমন পৃথিবী থাকা সম্পূর্ণ সম্ভব, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব টিক থাকতে পারে!
আমাদের সৌরজগতে মাত্র একটি সূর্য রয়েছে, যা একে মহাকাশের অন্য অনেক সিস্টেম থেকে একটু আলাদা করে তোলে। আসলে মহাকাশের অর্ধেকের বেশি নক্ষত্রই একা নয়, বরং জোড়ায় জোড়ায় বা একাধিক সঙ্গী নিয়ে বাস করে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে, দ্বিতীয় আরেকটি সূর্য যদি কোনো রেকিং বলের মতো এসে পড়ে, তবে কি সেখানে পৃথিবীর মতো ছোট কোনো গ্রহের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে না?
সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদন বলছে, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকদের একটি বিশাল দল ১৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত '৭০ অফিউচি' নামের একটি বাইনারি নক্ষত্র সিস্টেম নিয়ে গবেষণা করেছেন। এই সিস্টেমে সূর্যের চেয়ে কিছুটা ছোট দুটি নক্ষত্র একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরে চলেছে।
বিজ্ঞানীরা গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের পুরোনো ও নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। তারা কম্পিউটারে কোটি কোটি বছর ধরে চলা সিমুলেশন বা মডেলিং করে দেখেছেন যে, এই দুই নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় টানের পরেও নির্দিষ্ট দূরত্বে পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহের কক্ষপথ সম্পূর্ণ স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অর্থাৎ, দ্বিতীয় সূর্যের উপস্থিতি সবসময় গ্রহের ধ্বংস ডেকে আনে না।
অবশ্য এই গবেষণায় একটি নিরাশাজনক তথ্যও মিলেছে। উনিশ শতকের দিকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন যে এই সিস্টেমে বৃহস্পতি গ্রহের মতো বিশাল কোনো গ্যাস দানব বা গ্রহ থাকতে পারে। কিন্তু নতুন গবেষণায় সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে যে সামান্য ওঠানামা বা 'কম্পন' দেখা গিয়েছিল, তা কোনো গ্রহের কারণে নয়, বরং নক্ষত্র দুটির নিজস্ব স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের ফলে হয়েছে।
বৃহৎ আকারের কোনো গ্যাস দানব গ্রহ না থাকলেও, গবেষকদের মতে সেখানে পৃথিবীর মতো ছোট ও পাথুরে গ্রহ থাকার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে।
আগামী দিনে নাসার মতো মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো যখন আরও উন্নত টেলিস্কোপ নিয়ে মহাকাশ অনুসন্ধানে নামবে, তখন এই জোড়া সূর্যের পৃথিবীগুলোই হতে পারে ভিনগ্রহের প্রাণের সন্ধান পাওয়ার সেরা ঠিকানা।



