সহজ ভাষায়
সাইবর্গ

আমরা সিনেমায় বা গল্পে এমন কিছু চরিত্র দেখি, যারা মানুষ হলেও তাদের শরীরে উন্নত সব কলকবজা বা প্রযুক্তি লাগানো থাকে। এদেরকেই বলা হয় ‘সাইবর্গ’। এটি আসলে দুটি ইংরেজি শব্দ ‘সাইবারনেটিক’ (প্রযুক্তি) ও ‘অর্গানিজম’ (জীব)— এ দুটি মিলে তৈরি হয়েছে।
সাইবর্গ মানে হলো এমন এক জীবন্ত মানুষ বা প্রাণী, যার শরীরের কোনো না কোনো অংশে স্থায়ীভাবে কোনো যান্ত্রিক বা কৃত্রিম বস্তু বসানো হয়েছে। মনে রাখবেন, সাইবর্গ কিন্তু রোবট নয়। রোবট তৈরি হয় পুরোপুরি লোহালক্কড় আর কম্পিউটার প্রোগ্রাম দিয়ে, যার কোনো মন বা মানুষের মতো মস্তিষ্ক নেই। অন্যদিকে, সাইবর্গ হলো রক্ত-মাংসের একজন মানুষ, যার ক্ষমতা সাধারণের চেয়ে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, সাইবর্গ এখন আর শুধু সিনেমার গল্প নয়; আমাদের বাস্তব জীবনেও এর মিল পাওয়া যায়। যেমন— কারও হার্টে সমস্যা হলে যখন শরীরে কৃত্রিম ‘পেসমেকার’ বসানো হয় কিংবা কানে কম শুনলে যখন ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট’ নামে ছোট যন্ত্র লাগানো হয়, তখন এক অর্থে সেই মানুষটিও সাইবর্গের একটি রূপ হয়ে ওঠেন। এমনকি আজকাল বিজ্ঞানের কল্যাণে এমন কৃত্রিম হাত বা পা-ও তৈরি হচ্ছে, যা মানুষ নিজের মস্তিষ্কের চিন্তা বা ইশারায় হুবহু আসল হাতের মতো নড়াচড়া করতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সাইবর্গ হলো মানুষ আর যন্ত্রের এমন এক মেলবন্ধ, যা মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা বা অক্ষমতাকে দূর করে তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।




