মানুষের হাসি-কান্নাও বুঝবে তারা

ইউবিটেকের তৈরি ইমোশনাল রোবট
রোবটে এখন যুক্ত হচ্ছে আবেগ। তারাও মানুষকে সান্ত্বনা দেবে, ঘুচিয়ে দেবে একাকিত্ব। লিখেছেন সিরাজাম মুনিরা
আমাদের প্রবীণদের জীবন এখন কঠিন। একাকী, নিঃসঙ্গ কাটে তাদের দিন। অনেকের খোঁজ নেওয়ার মানুষও থাকে না। আর তাদের জন্য একই সঙ্গে সেবক ও বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠতে যাচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট। নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া বা স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখার পাশাপাশি তাদের গল্পও শোনাবে তারা।
এই হিউম্যানয়েড রোবটকে অন্য এক মাত্রায় নিয়ে যেতে চলেছে চীনভিত্তিক বিখ্যাত রোবটিকস প্রতিষ্ঠান ইউবিটেক। এই জুনের ৩০ তারিখ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাজারে উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এমন এক মানবাকৃতির মেশিন, যেটিকে প্রতিষ্ঠানটি বলছে ‘ইমোশনাল রোবট’ বা আবেগীয় রোবট।
প্রযুক্তির দুনিয়ায় এটিকে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এটি কেবল মানুষের নির্দেশ পালন করবে না, বরং মানুষের আবেগ বুঝতে এবং নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আবেগ প্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
প্রবীণদের জন্য একজন সেবক ও বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠতে যাচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট
ইউবিটেকের এই ইমোশনাল রোবটের মূল বৈশিষ্ট্য এর উন্নত ‘মাল্টিমোডাল পারসেপশন’ এবং কৃত্রিম অনুভূতি ইঞ্জিন। রোবটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা, থ্রিডি সেন্সর এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল ভয়েস রিকগনিশন প্রযুক্তি। এর ফলে এটি তার সামনে থাকা মানুষের মুখের সামান্যতম অভিব্যক্তি, চোখের পলক, গলার স্বরের ওঠানামা এবং শরীরের ভাষা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবে।
উদাহরণস্বরূপ, রোবটটির মালিক যদি বিষণ্ণ মনে ঘরে ফেরেন, তবে তার গলার আওয়াজ ও মুখাবয়ব দেখেই রোবটটি বুঝতে পারবে, তিনি ভালো নেই। তখন সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সান্ত্বনাদায়ক কথা বলবে কিংবা হালকা কোনো সুর বাজিয়ে ঘরের পরিবেশকে ফুরফুরে করার চেষ্টা করবে। মানুষের সুখ-দুঃখ, রাগ কিংবা অভিমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোর এ ক্ষমতাই একে অনন্য করেছে।
মুখের স্ক্রিনে থাকা ডিজিটাল চোখের নড়াচড়া এবং শরীরের নমনীয় অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে এটি আনন্দ, বিস্ময় বা সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারবে। ইউবিটেকের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই রোবটটি কেবল তথ্য সরবরাহ করে না; বরং একজন প্রকৃত বন্ধুর মতো সহানুভূতিশীল হয়ে আড্ডা দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে কোনো একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকতে থাকতে রোবটটি সেই ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ, মেজাজ এবং দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো নিজের মেমোরিতে গেঁথে নিতে পারে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর আচরণ আরও বেশি ব্যক্তিগত ও আপন হয়ে উঠবে।
বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুর মানসিক বিকাশে এবং একাকিত্ব কাটাতেও এটি শিক্ষণীয় সঙ্গী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে। এর সংবেদনশীল আচরণ শিশুর সঙ্গে একটি নিরাপদ ও আনন্দদায়ক মিথস্ক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম।
তবে এ ধরনের আবেগীয় রোবট বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক প্রশ্নও সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মানুষ যদি রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়ে এই নিখুঁত ও সর্বদা অনুগত রোবটের প্রতি বেশি মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে তা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।




