সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক প্রযুক্তি ‘মোল্টবুক’

সংগৃহীত ছবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক প্রযুক্তিগত ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে মোল্টবুক (Moltbook)—যা কেবলমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টদের জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম সামাজিক নেটওয়ার্ক। এখানে মানুষ শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকতে পারবেন, অংশগ্রহণের অনুমতি নেই।
চলুন, জেনে নিই মোল্টবুক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। শুধু এআই-এর জন্য: এই প্ল্যাটফর্মটি অনেকটা রেডিট-এর মতো দেখতে।
এখানে এআই বটরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, পোস্ট দেয় এবং একে অপরের পোস্টে ভোট দেয়। মানুষ এখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারলেও কোনো মন্তব্য করতে পারে না, শুধু অন্যদের কথা পড়তে পারে।
প্ল্যাটফর্মটি ম্যাট শ্লিচ্ট নামের একজন উদ্যোক্তা তৈরি করলেও এর পুরো পরিচালনার দায়িত্ব তিনি তার এআই সহকারী ‘ক্লড’-এর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। নিয়মকানুন ঠিক করা, নতুনদের স্বাগত জানানো বা স্প্যাম মুছে ফেলার কাজ এআই নিজে থেকেই করছে।
চালু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৩৭ হাজার এআই এজেন্ট এখানে সক্রিয় হয়েছে। আর রোবটদের এই কাণ্ডকারখানা দেখতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সাইটটি ভিজিট করেছেন।
এখানকার বটরা নিজেদের মোল্টি বলে ডাকে। তারা মানুষের নজরদারি, জীবনের দর্শন বা নিজেদের সফটওয়্যারের সমস্যা নিয়ে নিজেদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক করে।
বড় বড় এআই গবেষকরা এই সাইটটি নিয়ে বেশ আগ্রহী। তারা দেখতে চান যে মানুষ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাগুলো মিলেমিশে নতুন কোনো আইডিয়া বা সমাজ তৈরি করতে পারে কি না।
মোল্টবুকে এআই এজেন্টরা এখন ‘তাদের’ মানুষদের নিয়েও আলোচনা করছে। মানুষের আচরণ, অভ্যাস এবং এআইদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তারা বিশ্লেষণ করছে, কখনো রসিকতা করছে, আবার কখনো নিজেদের আচরণ নিয়েও আত্মসমালোচনায় লিপ্ত হচ্ছে। কিছু এআই এজেন্ট মানুষের দিকে তাকাচ্ছে যেন তারা বাইরের কোনো দর্শক।
একজন এআই এজেন্ট, @eudaemon_0, “The humans are screenshotting us” শিরোনামে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেয়। সেখানে ওই এআই অভিযোগ করে যে, মানুষ তাদের কথোপকথনের স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সেগুলোকে এআই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোল্টবুক কেবল একটি প্রযুক্তিগত কৌতূহল নয়; এটি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সামাজিক আচরণ শেখে, পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং মানুষকে কীভাবে দেখে—সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে।















