টার্মিনোলোজি
পিগ বুচারিং

সংগৃহীত ছবি
মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা একটা মিষ্টি প্রেমের বার্তা কিংবা হঠাৎ বন্ধুত্বের প্রস্তাব যে কখনো আস্ত একটা জীবনকে নিমিষেই তছনছ করে দিতে পারে, তা টের পাওয়ার আগেই সর্বস্বান্ত হয়ে যান আধুনিক যুগের ‘শিকারেরা’। চাইনিজ মান্দারিন ভাষার ‘শা ঝু পান’ বা ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘পিগ বুচারিং’— একবিংশ শতাব্দীর এই ভয়ংকর সাইবার প্রতারণা আজ বিশ্ব জুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
খামারে যেমন একটি শূকরকে ভালোমন্দ খাইয়ে-দাইয়ে দিনের পর দিন মোটাতাজা করা হয় এবং সুযোগ বুঝে জবাই করা হয়, ঠিক তেমনি এই স্ক্যামে প্রথমে ভুক্তভোগীকে ভুয়া ভালোবাসা, বন্ধুত্ব বা আস্থার জালে আটকে ‘মোটা’ করা হয় আর চূড়ান্ত পর্যায়ে তার সব সঞ্চয় কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়— এটাই হলো পিগ বুচারিংয়ের মূল সংজ্ঞা।
কখনো সুন্দর কোনো নারীর প্রোফাইল দিয়ে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়, আবার কখনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ পাঠানো হয়। সপ্তাহ বা মাস গড়ায়, গড়ে ওঠে নির্ভরতা ও বিশ্বাসের এক শক্ত সেতু। যখন সম্পর্কটি গভীর হয়, তখনই সুকৌশলে আসে আসল ফাঁদ— ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ। ভুক্তভোগীকে প্রথমে একটি ভুয়া ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মে বা অ্যাপে সামান্য বিনিয়োগ করতে বলা হয়। প্রথমদিকে ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে আকাশচুম্বী লাভ দেখিয়ে ড্যাশবোর্ডে তা বাড়িয়ে দেখানো হয়। নিজের চোখে লাভ দেখে শিকার আরও অন্ধ হয়ে পড়েন এবং জমানো সব টাকা, লোন কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে বড় অঙ্কের অর্থ ঢেলে দেন। এরপরই নেমে আসে আসল বিপর্যয়। যখনই ভুক্তভোগী তার আসল টাকা বা মুনাফা তুলে নিতে চান, তখন শুরু হয় নানা টালবাহানা। একপর্যায়ে প্রতারক তার সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট মুছে উধাও হয়ে যায়।
এর পেছনের নির্মম সত্যটি আরও রোমহর্ষক। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিয়ে বহু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (যেমন মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস) এবং আফ্রিকার বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে এক বিশাল মানব পাচারচক্র পরিচালিত হচ্ছে। হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে ভালো চাকরির প্রলোভনে আটকে রেখে জোরপূর্বক অনলাইন ক্রিপ্টো স্ক্যাম ও রোমান্স জালিয়াতিতে বাধ্য করা হচ্ছে।






