ক্রাইম থ্রিলার
কিলার ইন দ্য রেইন

আমেরিকান ‘হার্ড-বয়েল্ড’ ক্রাইম ফিকশনের ওস্তাদ রেমন্ড চ্যান্ডলারের অন্যতম প্রভাবশালী ও ক্লাসিক ছোটগল্প ‘কিলার ইন দ্য রেইন’ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩৫ সালের জানুয়ারিতে বিখ্যাত ম্যাগাজিন ব্ল্যাক মাস্কে।
গল্পটি শুরু হয় এক স্যাঁতসেঁতে, অবিরাম বৃষ্টিভেজা আবহ দিয়ে। গল্পের প্রধান চরিত্র বা প্রাইভেট ডিটেকটিভ হলেন চ্যান্ডলারের শুরুর দিকের গল্পগুলোর চেনা মুখ পরামর্শক গোয়েন্দা, যিনি এক ধনী ক্লায়েন্টের অনুরোধে তার ব্ল্যাকমেইলের শিকার তরুণী কন্যা কারমেন ড্রেভেককে উদ্ধার করতে নামেন। তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দা যখন ব্ল্যাকমেলারের (স্টেইনার) আস্তানায় পৌঁছান, তখন সেখানে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মুখোমুখি হন— স্টেইনার মৃত এবং কারমেন সম্পূর্ণ বিবস্ত্র ও ঘোরগ্রস্ত অবস্থায় সেখানে বসে আছেন। এ খুনের রহস্য উদঘাটন এবং ব্ল্যাকমেইলের জাল ভেদ করতেই গল্পটি সামনে এগোতে থাকে।
চ্যান্ডলারের এ গল্পটির ভেতরে লুকিয়ে আছে মানুষের লোভ, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং তৎকালীন সমাজের পচে যাওয়া বাস্তবতার এক নির্মম রূপ। এ গল্পের প্লট এবং চরিত্রগুলো এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, পরবর্তীকালে চ্যান্ডলার তার ইতিহাসের অন্যতম সেরা মাস্টারপিস উপন্যাস ‘দ্য বিগ স্লিপ’ লেখার সময় এই গল্পের উপাদান ও চরিত্রগুলোকে (যেমন কারমেন ও ব্ল্যাকমেইল চক্র) ব্যাপকভাবে পুনর্বিন্যাস ও পরিবর্ধন করেছিলেন।
যারা খাঁটি গোয়েন্দা সাহিত্য ও ফিল্ম নোয়ারের শিকড় খুঁজতে চান, তাদের জন্য এ গল্পটি অপরাধ সাহিত্যের এক অবিকল্প দলিল।




