এফবিআই ফাইলস
গেমওভার জিউস কট

একটি ইমেইল এলো। কম্পিউটার ব্যবহারকারী সেটি খুললেন। কিন্তু তিনি জানতেও পারলেন না, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তার কম্পিউটার যুক্ত হয়ে গেছে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর সাইবার অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে। চুরি হতে শুরু করল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, পাসওয়ার্ড ও গোপন আর্থিক নথি। পর্দার আড়ালে থেকে গেলেন সেই নেটওয়ার্কের কথিত নিয়ন্ত্রক, রাশিয়ার নাগরিক ইভগেনি বোগাচেভ।
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই যখন গেমওভার জিউস নামে এই সাইবার অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, তখন তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, বিশ্ব জুড়ে পাঁচ থেকে দশ লাখ কম্পিউটার এতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই নেটওয়ার্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি। ঘটনাটি শুধু বিপুল অর্থ চুরির জন্য নয়; অপরাধীদের প্রযুক্তিগত কৌশল এবং তাদের নাগাল পেতে তদন্তকারীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার কারণেও আলোচিত হয়ে ওঠে।
গেমওভার জিউস ছিল একধরনের বটনেট। সহজভাবে বললে, ভাইরাস বা ক্ষতিকর সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে তৈরি একটি নেটওয়ার্ক। ব্যবহারকারীরা নিজেদের কম্পিউটার স্বাভাবিকভাবেই চালাতেন, অথচ সেগুলোর একটি অংশ অপরাধীদের কাজে ব্যবহৃত হতো। এই নেটওয়ার্কের প্রধান লক্ষ্য ছিল অনলাইন ব্যাংকিংয়ের গোপন তথ্য সংগ্রহ করা। পরে সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হতো অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিদেশি হিসাবে।
নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক ছিলেন রাশিয়ার নাগরিক ইভগেনি বোগাচেভ
প্রচলিত অনেক বটনেটের মতো এটি একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সার্ভারের ওপর নির্ভরশীল ছিল না; বরং এর বিকেন্দ্রীভূত, পিয়ার-টু-পিয়ার কাঠামোর কারণে আক্রান্ত কম্পিউটারগুলোর মাধ্যমেও নির্দেশনা আদান-প্রদান সম্ভব ছিল। ফলে কয়েকটি সার্ভার বন্ধ করে পুরো নেটওয়ার্ক অচল করা কঠিন।
২০১৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সমন্বিত অভিযান শুরু করে। ২ জুন মার্কিন বিচার বিভাগ ও এফবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, গেমওভার জিউস নেটওয়ার্ককে ব্যাহত করার পাশাপাশি এর কথিত প্রশাসক বোগাচেভের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান সফল হলেও মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বোগাচেভকে গ্রেপ্তার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তিনি রাশিয়ায় অবস্থান করছেন বলে তখন ধারণা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তার পরিচালিত নেটওয়ার্ক ব্যাহত করা গেলেও তাকে মার্কিন আদালতের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।



