ব্যাটম্যানের কেরামতি

গথাম সিটির অন্ধকার অলিগলি নয়, একেবারে বাস্তবের জমজমাট এক রাতে ইংল্যান্ডের নরউইচ শহরে ঘটেছে সিনেমার মতো এক ঘটনা। নাইটক্লাবের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর হাত থেকে হঠাৎ ছিনতাই হয়ে যায় ব্যাগ। আর সেই চোরকে ধরতে সুপারহিরোর বেশে ছুটে আসেন খোদ ‘ব্যাটম্যান’।
ঘটনাটি গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে। ২৫ বছর বয়সী সনি মেসন বন্ধুদের একটি ফেন্সি ড্রেস পার্টিতে যোগ দিতে নরউইচে গিয়েছিলেন। তার গায়ে ছিল ব্যাটম্যানের বিখ্যাত কস্টিউম। নাইটক্লাবের বাইরে লাইনে দাঁড়ানোর সময় একটি বিবাদের মধ্যে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে এক ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি চোখে পড়তেই আর দশজনের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে ব্যাটম্যানের পোশাক পরা মেসন ছুটে যান তার পেছনে।
তার সঙ্গে ধাওয়ায় যোগ দেন আরও কয়েকজন, যারা সেদিনের পার্টির জন্য বিভিন্ন কমিক চরিত্রের পোশাক পরেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মার্ভেলের ‘মিস্টার ফ্যান্টাস্টিক’ ও ডিসি কমিকসের ‘পয়জন আইভি’। অর্থাৎ কয়েক মিনিটের মধ্যেই নরউইচের রাস্তায় যেন বাস্তব জীবনের এক ‘সুপারহিরো ক্রসওভার’ তৈরি হয়ে যায়।
ধাওয়ার সময় তারা সামনে থাকা নিয়মিত টহলরত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানান। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো গেলেও তার কাছে ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। এরপর শুরু হয় ব্যাগটির খোঁজ। স্থানীয় এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে জানা যায়, ব্যাগটি ছিনতাইয়ের জায়গা থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নরউইচ ক্যাথেড্রালের কাছের একটি উঁচু ফ্লিন্ট দেয়ালের ওপরে পড়ে আছে। সমস্যা হলো, ব্যাগটি এমন উচ্চতায় ছিল যে নিচ থেকে সহজে হাতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। প্রথমে সেটি নামানোর জন্য নানা উপায় চেষ্টা করা হয়। এমনকি টয়লেট পেপারের রোল ব্যবহার করেও ব্যাগটি নিচে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ‘সুপারহিরো প্রযুক্তি’ কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত ব্যাটম্যানের কস্টিউম পরেই আসল কাজটি করতে হয় মেসনকে। বন্ধুদের সহায়তায় উঁচু দেয়ালে উঠে তিনি ব্যাগটি হাতে তুলে নেন। এরপর সেটি নিরাপদে নিচে এনে ফেরত দেওয়া হয় মালিকের হাতে। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, ব্যাগের ভেতরের সব জিনিসই অক্ষত ছিল। ঘটনাটির বেশ কিছু অংশ ভিডিওতে ধারণ করা হয় এবং পরে মেসনের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হলে সেটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। লন্ডনের এক ক্যাফেতে কাজ করা মেসন পরে জানান, তিনি নিজেকে কোনো বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ মনে করেন না। সেদিন তিনি শুধু এমন একজনকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, যিনি বিপদে পড়েছিলেন।
তবে দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।



