শ্রাবণের অনাহূত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সময়টা ২০১৮ সাল। ঘটনাটা মোহাম্মদপুর এলাকার কানাগলির শেষ মাথার একটা পুরনো ছয়তলা বাড়ির। তখন শ্রাবণ মাস। দুপুরের শেষভাগে আমি খাটের এক কোণে হেলান দিয়ে বসে বই পড়ছিলাম। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। হঠাৎ চোখের কোণে আবছা একটা ছায়ার উপস্থিতি টের পেয়ে বই থেকে চোখ সরিয়ে ডানে তাকাতেই মনে হলো বারান্দা দিয়ে গাঢ় নীল রঙের জামা পরিহিত কেউ একজন তাড়াহুড়া করে পাশের রুমের দিকে ছুটে চলে গেল।
খাট থেকে নেমে পাশের রুমের দিকে পা বাড়ালাম। সেখানে গিয়ে দেখি ঘর পুরো খালি। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, ড্রেসিং টেবিলের ওপর খুব যত্নে রাখা আমার প্রিয় সুগন্ধির কাচের বোতলটা তখনো দুলছে!
আসল বিভ্রান্তি শুরু হলো রাতে। ঘুম আসছিল না। রাত তখন আড়াইটা। ছাদে একটানা বৃষ্টি পড়ার তীব্র আওয়াজ— ঝুম-ঝুম-ঝুম। হঠাৎ খেয়াল করলাম, ছাদের বৃষ্টির শব্দের ছন্দটা কেমন যেন অন্যরকম সুরে বদলে গেল। মনে হচ্ছে কেউ যেন ছাদে জমে থাকা পানিতে দৌড়াচ্ছে।
থপ... থপ... থপ... থপ...
কেউ একজন ছাদের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটে যাচ্ছে। তারপর ঠিক আমার মাথার ওপরের ছাদে এসে থেমে পা দিয়ে পানি নিয়ে খেলছে।
উৎসাহ আর ভয়ের একটা অদ্ভুত অনুভূতি মিলিয়ে অনেকটা সম্মোহিতের মতো ধীরে ধীরে মেইন গেট খুলে সিঁড়ি দিয়ে ছাদের দিকে উঠলাম। গিয়ে দেখি দরজায় বড় তালা ঝুলছে। নিজেকে বোঝাতে বোঝাতে নিচে নেমে এলাম।
রুমে ঢুকতে যাব এমন সময় পাশের রুমের দিকে চোখ পড়তেই গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো। ঘরের মেঝেতে ছোট ছোট পায়ের ভেজা ছাপ। ছাপগুলো ঘরের দরজা থেকে শুরু হয়ে ব্যালকনিতে গিয়ে শেষ হয়েছে। নিচ কুকুরগুলো একসঙ্গে ঘেউ ঘেউ করছে। আমি এক লাফে খাটে উঠে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে দোয়া-দরুদ, আয়াতুল কুরসি পাঠ করা শুরু করলাম। একসময় ফজরের আজানের ধ্বনি কানে ভেসে এলো।
ভোরের আলো ফোটার পর পাশের রুমে ভয়ে ভয়ে পা টিপে টিপে গিয়ে দেখি, ভেজা পায়ের ছাপ শুকিয়ে গেছে। কিন্তু কাগজে পানি পড়ার পর শুকিয়ে গেলে যেমন দেখায় ঠিক তেমনই অদ্ভুত দাগগুলো এখনো স্পষ্ট। পাশে কয়েক ফোঁটা তাজা রক্ত পড়ে আছে।




