ভিনদেশের ভূত
স্পেনের অভিশপ্ত দুর্গ

মধ্যযুগীয় দুর্গ ‘প্যারাডোর দে কারদোনা’
আপনি যদি স্পেনের বার্সেলোনার কাছে অবস্থিত মধ্যযুগীয় দুর্গ ‘প্যারাডোর দে কারদোনা’র ৭১২ নম্বর কক্ষে পা রাখেন, তবে টের পাবেন এক অদৃশ্য জোড়া চোখ আপনার প্রতিটি নড়াচড়া লক্ষ করছে। হঠাৎ মনে হবে, আপনার কানের খুব কাছে কেউ একজন যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ভারী নিঃশ্বাস ফেলছে।
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে স্পেন। গোটা দেশের মানুষ যখন উৎসবে মাতোয়ারা, রাজপথে যখন বিজয়ের আলো, ঠিক তখনই কারদোনার এই অভিশপ্ত দুর্গটি একবুক খাঁ খাঁ অন্ধকার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ের চূড়ায়।
এককালে এটি ছিল মধ্যযুগের এক কুখ্যাত কারাগার এবং নির্মম নির্যাতন কেন্দ্র। আজ এটি একটি বিলাসবহুল হোটেল বটে, কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই বীভৎস ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায়নি।
বিশেষ করে এই হোটেলের ৭১২ নম্বর কক্ষটি সবচেয়ে অশুভ। বলা হয়ে থাকে, এই ঘরে এক বন্দিকে নির্মমভাবে অত্যাচার করে মেরে ফেলা হয়েছিল। আবার অনেকে বলেন, এখানে এক শ্বেতশুভ্র পোশাক পরিহিত তরুণীর আত্মা ঘুরে বেড়ায়, যাকে অন্যায়ভাবে এই দুর্গের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। গভীর রাতে যখন পুরো হোটেল ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, তখন হঠাৎ করেই ৭১২ নম্বর ঘরের আসবাবপত্রগুলো নিজে থেকেই নড়াচড়া করতে শুরু করে। ঘরের বাতিগুলো আপনমনেই জ্বলে আর নেভে। অনেক অতিথি দাবি করেছেন, মাঝরাতে বাথরুমের কল থেকে আপনাআপনি পানি পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। বিছানায় শুয়ে থাকলে মনে হয়, কেউ একজন গায়ের ওপর থেকে গায়ের চাদরটি টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সব থেকে ভয়ানক ব্যাপার হলো, কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এর ভেতর থেকে ভারী পায়ের শব্দ এবং শিকল টানার আওয়াজ বাইরে থেকে স্পষ্ট শোনা যায়।




