রহস্যময় পন্তিয়ানাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গভীর রাত। মালয়েশিয়ার এক ছোট্ট গ্রামে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল রাশেদ মুহাম্মদ। হালকা বাতাসে কলাগাছের পাতা কাঁপছিল অদ্ভুত শব্দ তুলে। হঠাৎ দূরে কোথাও এক শিশুর কান্না শোনা গেল। প্রথমে সে ভাবল কোনো বাড়ির ভেতর থেকে আসছে। কিন্তু শব্দটা ক্রমেই কাছে আসতে লাগল। চারপাশে তাকিয়ে বুঝল, আশপাশে কোনো বাড়িই নেই। বুকের ভেতর ঠান্ডা একটা স্রোত বয়ে গেল। ঘাড় ঘুরিয়ে সে দেখল, সাদা পোশাক পরা এক নারী, লম্বা চুল মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে আছে কলাগাছের পাশে। আর সেই কান্না যেন তার কাছ থেকেই আসছে।
মালয় এবং ইন্দোনেশীয় লোককথায় এই ভয়ংকর আত্মাটিকে বলা হয় কুনতিলানাক বা পন্তিয়ানাক। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী এরা সেসব নারীর আত্মা, যারা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা গেছে। মৃত্যুর অসম্পূর্ণ যন্ত্রণা আর বেদনা তাদের আত্মাকে অশান্ত করে তোলে, আর তারা ফিরে আসে এক ভীতিকর রূপ নিয়ে।
লোককথা অনুযায়ী, পন্তিয়ানাক হলো সেই নারীদের আত্মা, যারা গর্ভবতী অবস্থায় মারা গেছে। অনেক সময় এটি আরেকটি আত্মা ল্যাং সুইরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। তবে পার্থক্য আছে। ল্যাং সুইর হলো সেই নারীর আত্মা, যে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে শিশুসহ মারা গেছে।
পন্তিয়ানাক শব্দটির উৎপত্তি নিয়েও গল্প আছে। কেউ বলেন, এটি মালয় ভাষার একটি বাক্য থেকে এসেছে যার অর্থ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাওয়া নারী। আবার কেউ বলেন, শব্দটি এসেছে নারী, মৃত্যু ও সন্তান এই তিনটি শব্দ মিলিয়ে।
এই আত্মাকে সাধারণত ফ্যাকাসে চেহারা, লম্বা চুল এবং সাদা পোশাক পরা এক নারী হিসেবে কল্পনা করা হয়। তবে বলা হয়, সে ইচ্ছা করলে খুব সুন্দর রূপ ধারণ করতে পারে, যাতে পুরুষদের আকৃষ্ট করা সহজ হয়।
লোককথায় পন্তিয়ানাক তার উপস্থিতি জানান দেয় শিশুর কান্নার শব্দে। তার উপস্থিতির সবচেয়ে ভয়ংকর লক্ষণ হলো গন্ধ। বলা হয়, সে কাছে এলে এক ধরনের পচা, তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই সঙ্গে শোনা যায় নবজাতকের কান্না। এ দুই সংকেতই মানুষকে সতর্ক করে দেয়, বিপদ খুব কাছে।
এই আত্মা নাকি তার শিকারকে ধারালো নখ দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং দেহের ভেতরের অংশ খেয়ে ফেলে।
লোককথায় আরও বলা হয়, পন্তিয়ানাক সাধারণত পুরুষদেরই লক্ষ্য করে। তারা পরিষ্কার কাপড়ের গন্ধ অনুসরণ করে শিকার খুঁজে নেয়। এ কারণে মালয়েশিয়ার অনেক মানুষ আজও রাতে বাইরে কাপড় শুকাতে দেন না। তাদের বিশ্বাস, এই অভ্যাস বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ধারণা করা হয়, দিনের বেলা পন্তিয়ানাক কলাগাছের ভেতর আশ্রয় নেয়। তাই গ্রামাঞ্চলে কলাবাগানকে অনেকেই অশুভ মনে করে। রাত নামলেই সেই নির্জন জায়গাগুলো আরও ভৌতিক হয়ে ওঠে।
সূত্র: ফ্যান্ডম ডট কম




