লাল-সবুজ ফল তরমুজের গুণাগুণ

সংগৃহীত ছবি
স্বাধীনতা দিবসে নিজের জীবনে লাল-সবুজের পরশ জরুরি। সেদিন লাল-সবুজ পোশাক পরেন অনেকেই। ঘর সাজানোতে ব্যবহার করেন লাল-সবুজ রঙের।
লাল-সবুজের এই কনট্রাস্ট খাবার টেবিলেও নিয়ে আসতে পারে বৈচিত্র্য। লাল-সবুজ উভয় রঙের শাকসবজি-ফলমূলেরই আছে নানান স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ। আজকে জানা যাক লাল-সবুজ ফল তরমুজের মধ্যে কী কী গুণাগুণ আছে।
হাইড্রেশন
তরমুজে প্রায় ৯০–৯২ শতাংশ পানি থাকে। গরমে ডিহাইড্রেশন ঠেকাতে এটা সরাসরি কাজ করে। শুধু পানি নয়, ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স করতেও সাহায্য করে রিফ্রেশিং এই ফল তরমুজ।
হৃৎপিণ্ডের সুস্থতায়
তরমুজে আছে লাইকোপিন। লাল যত বেশি, তত লাইকোপিনের মাত্রাও বেশি আছে বলে ধরে নেওয়া যায়। লাইকোপিন হলো শক্তিশালী একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। সেজন্য নিয়মিত খেলে রক্তচাপ কমাতে ও হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই ফল।
ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায়
তরমুজ ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’র ভালো উৎস।
ভিটামিন ‘সি’ আমাদের দেহে কোলাজেন তৈরি করে। এতে করে ত্বক টানটান থাকে। দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে না।
ভিটামিন ‘এ ’ত্বক রিপেয়ার করতে সাহায্য করে।
মানে, তরমুজকে বলা যায় একটি ‘বিউটি ফুড’।
এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং নানারকম রোগ প্রতিরোধে ভালো কাজ করে।
মাংসপেশির ক্লান্তি দূর করতে...
তরমুজে আছে সিট্রুলিন নামক একপ্রকার উপাদান।
এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে কাজ করে।
ব্যায়ামের পর পেশির ব্যথা কমাতে এবং রিলাক্স করাতে সাহায্য করে তরমুজে থাকা এই উপাদান।
পরিপাকতন্ত্রে সাহায্য করে
তরমুজে থাকা পানি ও ফাইবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রের কাজে সাহায্য করে।
ফাইবার বা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
এই ফলে আকারের তুলনায় ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে। কিন্তু আঁশ থাকায় দ্রুত পেট ভরাতে সাহায্য করে।
আমাদের অনেক সময়ই সুইট ক্রেভিং বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হয়৷ রিফাইন্ড চিনি দিয়ে তৈরি খাবার না খেয়ে তরমুজ খেয়ে নেওয়া যায় তখন। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমায় তরমুজ।
তরমুজ শরীরের জন্য উপকারী হলেও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের অতিরিক্ত তরমুজ না খাওয়াই ভালো। এতে হঠাৎ করে রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে।
এছাড়াও অসাধু ব্যবসায়ীরা তরমুজে লাল রঙের পরিমাণ বাড়াতে কৃত্রিম রঙ ইনজেক্ট করে থাকে, যা শরীরে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তৈরি করতে পারে।
তরমুজ কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি এমন ফলই কিনছেন যাতে কেমিক্যাল বা আর্টিফিশিয়াল রঙের ব্যবহার করা হয়নি।

