একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র)
প্রথম অধ্যায়-শিল্পবিপ্লব

সংগৃহীত ছবি
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১. শিল্পবিপ্লব কী?
উত্তর: শিল্পবিপ্লব হলো অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে প্রথমে ইংল্যান্ড এবং পরে ইউরোপের অন্যান্য দেশে উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যাপক রূপান্তর প্রক্রিয়া, যা গোটা সমাজে বিপুল পরিবর্তন এনেছিল।
২. কে প্রথম শিল্পবিপ্লব প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন?
উত্তর: ফরাসি সমাজতান্ত্রিক জেরোম অ্যাডলফ ব্লাংকি।
৩. শিল্পবিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে কোথায়?
উত্তর: ইংল্যান্ডে।
৪. গৌরবময় বিপ্লব কখন হয়?
উত্তর: ১৬৬৬ সালে।
৫. কে পাওয়ার লুম আবিষ্কার করেন?
উত্তর: ১৭৮৫ সালে এডমান্ড কার্টরাইট পাওয়ার লুম আবিষ্কার করেন।
৬. কে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন?
উত্তর: জেমস ওয়াট ১৭৬৯ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন।
৭. ডিজেল ইঞ্জিন কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: রুডলফ ডিজেল।
৮. কে উড়ন্ত মাকু আবিষ্কার করেন?
উত্তর: জন কে।
৯. স্পিনিং জেনি কী?
উত্তর: জেমস হারগ্রিভস কর্তৃক আবিষ্কৃত সুতা কাটার যন্ত্র।
১০. ফ্লাইং শাটল কী?
উত্তর: বয়নের জন্য দ্রুতগতিসম্পন্ন এক ধরনের মাকু।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১. ইংল্যান্ডকে পৃথিবীর কর্মশালা বলা হয় কেন?
উত্তর: উনিশ শতকে ইংল্যান্ডেই প্রথম শিল্পবিপ্লব হয় এবং এর ফলে প্রচুর কলকারখানা স্থাপিত হয়। কয়লা, লোহা, বস্ত্রশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়ীরা বিপুল মূলধন খাটিয়ে প্রচুর পণ্যসামগ্রী উৎপাদন শুরু করেন। পাশাপাশি বাষ্পীয় ইঞ্জিন ও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন এবং বৃহৎ উপনিবেশগুলোর মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি করায় ইংল্যান্ড পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। ফলে ইংল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর বৈদেশিক বাণিজ্য অনেক গুণ বেড়ে যায়। ১৭৬০ থেকে ১৮৫০-এর মধ্যে ইংল্যান্ডের বাণিজ্য প্রায় ১৩ গুণ বৃদ্ধি পায়। ইংল্যান্ড বিশ্ব জুড়ে পণ্যের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিতি পায়। এ কারণে ইংল্যান্ডকে পৃথিবীর কর্মশালা বলা হয়।
২. দরিদ্র আইন কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: দরিদ্র আইন হলো দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য ব্রিটেনে প্রণীত একটি আইন। মূলত চতুর্দশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইংল্যান্ডে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ভিক্ষাবৃত্তি মোকাবিলায় যেসব আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়, সেগুলোকেই দরিদ্র আইন বলে। ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। এই আইনের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় করের দ্বারা দেশের দুস্থ, অসহায় এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। এই আইনে বলা হয়, কর্মক্ষম ব্যক্তিকে অবশ্যই কাজ করতে হবে এবং কাজ করতে অস্বীকার করলে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি অকর্মক্ষম ব্যক্তিদের খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থার জন্য রিলিফ প্রদান করা হবে এবং এই রিলিফ প্রদান করার জন্য প্রত্যেক শ্রমাগারে দরিদ্র রেট ধার্য করা হবে।
৩. রুশোর সামাজিক মতবাদের মূল কথা লেখ।
উত্তর: সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবক্তা হলেন জ্যা জ্যাক রুশো। তার বিখ্যাত ‘The Social Contract’ বইয়ে তিনি এই মতবাদ তুলে ধরেছেন। এই মতবাদ অনুযায়ী, মানুষ প্রাকৃতিক অবস্থায় স্বাধীন ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা, শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য মানুষ নিজেদের কিছু স্বাধীনতা স্বেচ্ছায় ত্যাগ করে পরস্পরের মধ্যে একটি চুক্তি করে সরকার গঠন করে। এভাবে রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। ঈশ্বর বা কোনো রাজা রাষ্ট্র সৃষ্টি করেনি। এই চুক্তিকেই বলা হয় সামাজিক চুক্তি।
৪. ম্যানর প্রথা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মধ্যযুগের ইউরোপে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে গড়ে ওঠা একটি কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো হলো ম্যানর প্রথা। এই প্রথা ছিল সামন্ততন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। এই প্রথার মাধ্যমে একটি গ্রামের সব জমি একত্রে চাষ করা হতো এবং নিজেদের প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন করা হতো। ম্যানরের চাষিরা ছিলেন ভূমিদাস এবং তাদের বাধ্যতামূলক শ্রম দিতে হতো। সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব ছিল সামন্তপ্রভু বা লর্ডদের। ম্যানরগুলোতে দ্রব্যের মাধ্যমে বিনিময় প্রথা চালু ছিল।
৫. ইংল্যান্ডে কৃষিবিপ্লবের ফলে শিল্পবিপ্লব ঘটে – ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে কৃষিবিপ্লব ঘটলে ইংল্যান্ডে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ১৭৫০ সাল নাগাদ ইংল্যান্ড শস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় পৌঁছেছিল। কৃষির উন্নতির ফলে শিল্পের কাঁচামাল ছিল অপ্রতুল। অধিক উৎপাদন এবং উদ্বৃত্ত পুঁজি সৃষ্টি মানুষকে শিল্পকারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করেছিল। পাশাপাশি কৃষির উৎকর্ষতায় সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশের মধ্যেই শিল্পের বাজার সৃষ্টি হয়, যা শিল্পবিপ্লবের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।







