বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস
হুটহাট পিরিয়ড পেছাতে বার্থ কন্ট্রোল পিল?

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আনিকার (২৬) পিরিয়ডের তারিখ পড়েছে ওর বিয়ের সময়। বিয়ের এত ঝক্কি সামলে পিরিয়ড নিয়ে ভাবনার সময় কোথায়? পিরিয়ড পেছানোর কোনো উপায় আছে কি না, জানতে চাইতেই বান্ধবী জানাল বার্থ কন্ট্রোল পিল ব্যবহার করলে নাকি পিরিয়ড পেছানো যায়। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে বান্ধবীর পরামর্শই ওর মনে ধরল। কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হুট করে বার্থ কন্ট্রোল পিল নেওয়া শুরু করলেন।
শুধু আনিকাই নন, বাংলাদেশ ও ভারতের ঘরে ঘরে পিরিয়ড পেছাতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই মেয়েরা নিজ উদ্যোগে বার্থ কন্ট্রোল পিল নিচ্ছেন। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা ছাড়াই, গ্রুপ ট্যুর, চাকরির খাতিরে লংরুটে জার্নি, নিজের বা স্বজনদের কারও বিয়ে, ব্যক্তিগত কোনো কারণে পিরিয়ড পেছাতে দেদার বার্থ কন্ট্রোল পিল নিয়ে থাকেন।
এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ধর্মীয় কারণে বিশেষ করে পূর্ণ মাস রোজা পালন করার উদ্দেশ্যে এবং হজ ও ওমরাহ করার সময়টিতেও পিরিয়ড পেছাতে অনেক নারীকে বার্থ কন্ট্রোল পিল নিতে দেখা যায়। ক্রমবর্ধমান হারে এই চর্চা চলায় বিষয়টি উদ্বেগজনক। এটি নারীর মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাদ সাধছে বলেও মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই চর্চা চলায় ডাক্তার ও হাসপাতালগুলোয় এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য মিলছে না।
বিষয়টি নিয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা হয় ঈশিতার (ছদ্মনাম)। ‘একবারই পিরিয়ড পেছানোর জন্য ট্যুরের আগে খেয়েছিলাম। স্যুট করেনি। পরে হরমোন লেভেল চেঞ্জ হয়ে যায়। আমার অভিজ্ঞতা একেবারেই ভালো না।’
লিরা ইসলাম পেশায় প্রকৌশলী। এক দুর্ঘটনায় পড়ে চিকিৎসকের পরামর্শে পিরিয়ড বন্ধ রাখেন তিনি। ‘গত বছর কোমরের হাড় ভেঙে বিছানায় ছিলাম তিন মাস। তখন ডাক্তারের পরামর্শে পিল খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রেখেছিলাম। পিল বন্ধ করার পরই পিরিয়ড শুরু হয়। তেমন কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি আমাকে’— এভাবেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান দেন।
আরেক ভুক্তভোগী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘খুব জরুরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবার শরীরে হুটহাট সবকিছু খাপ খায় না। আমি পিল নিয়ে অনেক শারীরিক সমস্যার মুখে পড়েছি। একবার পিল খেয়ে পিরিয়ড সাইকেল চেঞ্জ হওয়ার পর খুবই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এর পরের কয়েকটা সাইকেল আমার অতিরিক্ত রক্তপাত, অস্বাভাবিক পিরিয়ড ক্রাম্পের মুখে পড়তে হয়। একজন ভুক্তভোগী হিসেবে চাই না কেউ আমার মতো এরকম ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হোক।’
বিষয়টি নিয়ে আগামীর সময়ের কথা হয় ইসলামবিষয়ক গবেষক ও লেখক মুফতি এনায়েতুল্লাহর। তার ভাষ্য, ‘শরিয়তের বিধান হলো, কোনো নারী যদি ওষুধ খেয়ে রোজা রাখতে চান, তা হলে তার রোজা হয়ে যাবে। তবে প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যত্যয় ঘটানো অনেক সময় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই আল্লাহর স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী চলা এবং ওষুধ গ্রহণ না করাই ভালো। আর এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারের আগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ জাতীয় ওষুধ সেবনের কারণে কারও শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরবর্তী জটিলতা এড়ানোর জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
এ বিষয়ে আগামীর সময়ের কথা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপ্রোডাক্টিভ, এন্ডোক্রাইনোলজি ও ইনফার্টিলিটি ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শাকিলা ইশরাতের সঙ্গে। তারা ভাষ্য, ‘পিল সম্পর্কে এবং সেটি খাওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে না জেনে নিজ থেকে খাওয়া যাবে না। দেরিতে পিরিয়ড হওয়ার জন্য বাজারে আলাদা পিল রয়েছে, সেটি ব্যবহার করা উচিত। কেউ যদি পিরিয়ড পেছাতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেই পিল নিতে হবে। এতে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়।’







