একই ওষুধ,ভিন্ন ব্র্যান্ড কোনটি বেছে নেবেন?

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একই রোগের জন্য একই জেনেরিক নামের ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় একাধিক ব্র্যান্ডের। প্যাকেট আলাদা, নাম আলাদা, দামও ভিন্ন। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে— সবকটি কি একই? নাকি দামের পার্থক্যের সঙ্গে ওষুধের মানেও পার্থক্য আছে?
ধরা যাক, বাংলাদেশের একজন রোগী উচ্চ রক্তচাপের জন্য amlodipine 5 mg খাচ্ছেন। একই জেনেরিকের একাধিক ব্র্যান্ড বাজারে থাকায় চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ব্র্যান্ডটি না পেয়ে রোগী নিজের সিদ্ধান্তে অন্য একটি ব্র্যান্ড কিনতে পারেন। আবার ডায়াবেটিসের metformin বা ব্যথার paracetamol-এর ক্ষেত্রেও একই। এখানে শুধু ব্র্যান্ডের নাম বা দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
একই জেনেরিকের ওষুধে মূল সক্রিয় উপাদান বা API একই থাকার কথা। তবে কাঁচামালের মান, ফর্মুলেশন, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ এবং মান নিয়ন্ত্রণে পার্থক্য থাকতে পারে।
এখানে বায়োইকুইভ্যালেন্স (দুটি জেনেরিক ও ব্র্যান্ডের ওষুধের কার্যকারিতা ও জৈবপ্রাপ্যতা সমান হওয়া) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে শরীরে সক্রিয় উপাদান কীভাবে শোষিত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে রেফারেন্স ওষুধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করা হয়। তাই বেশি দাম মানেই ভালো ওষুধ, আবার কম দাম মানেই নিম্নমানের— এমন ধারণাও সঠিক নয়।
রোগীর উচিত সঠিক জেনেরিক, সঠিক ডোজ এবং নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত করা। প্রেসক্রাইব করা ব্র্যান্ড না পেলে নিজের সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের বদলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। ওষুধের ক্ষেত্রে শুধু নাম বা দাম নয়; মান, নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং রোগীর প্রয়োজনই হওয়া উচিত মূল বিবেচনা।
লেখক: উপমহাব্যবস্থাপক ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড



