স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ভয় পাওয়া যাবে না
ডা. খাদিজা রহমান সোনিয়া

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আমাদের দেশের নারীরা স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং টেস্ট ও অপারেশনের ব্যাপারে ভয়ের মধ্যে থাকেন। অপারেশন ও পরবর্তী ধকল নিয়েও আতঙ্কে থাকেন তারা। এতে পিছিয়ে যায় চিকিৎসা।
কী করবেন
- স্তন ক্যানসার চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র গুছিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
- সেই চিকিৎসকের কাছেই চিকিৎসা নেবেন যার সঙ্গে কথা বলে আরাম পান
- ক্যানসার রোগীদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের দরকার হয়, তাই যে চিকিৎসকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা যাবে তাকে বেছে নিন
- বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্তন রেখে অপারেশন করা হয়। সেক্ষেত্রে রেডিয়েশন থেরাপি দিতে হয়
- স্তন রেখে চিকিৎসা করলে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। আবার অপসারণ করতে চাইলে নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক বাধার মুখে পড়তে হয়। এক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।
- কেমোথেরাপির পুরো সময়টি রোগীর জন্য খুবই কষ্টকর অধ্যায়। এখানে রোগীর পাশাপাশি স্বজনদেরও মনোবল ধরে রাখতে হবে।
- সঙ্গে থাকা অ্যাটেন্ডেন্টকে রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বুঝতে হবে। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হলে রোগীর মনোবল ধরে রাখার কাজটি সহজ হয়।
- কেমোথেরাপির সময় পিয়ার কাউন্সেলিং খুব জরুরি বিষয়। এ সময় যারা এরই মধ্যে স্তন ক্যানসার হারিয়ে জয়ী হয়েছেন, তাদের সঙ্গ ও আলাপচারিতা চিকিৎসাধীন রোগীর মনের জোর বাড়ায়।
- কেমো চলাকালে রোগীর চুল পড়ে যায়, ত্বক থেকে মৃত কোষ ঝরে পড়ার হার বাড়ে— এসব দেখে রোগী খুব মনমরা হয়ে পড়ে। এ সময় পারিবারিক রীতি রেওয়াজগুলোর ক্ষেত্রে রোগীকেও সমান অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে। প্রতিবেলায় খেতে বসার সময় রোগীকেও খাবার টেবিলে বসাতে হবে। আলাদা ঘরে খাবার দেওয়া যাবে না। সঙ্গ পেলে রোগীর মানসিক শক্তি বাড়ে।
- নির্দিষ্ট সময় পর রোগীর শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে পারিবারিক দায়িত্বগুলোও তাকে পালন করতে দিতে হবে
- রোগীর সঙ্গে স্বাভাবিক মানুষের মতো আচরণ করতে হবে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল




