জলাতঙ্ক থেকে বাঁচতে করণীয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত ভাইরাসজনিত একটি রোগ জলাতঙ্ক। এ রোগে আক্রান্ত প্রাণীর লালা মানুষের রক্তের সংস্পর্শে এসে মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রাণঘাতী র্যাবিস রোগ হয়।
যেসব প্রাণীর আক্রমণে জলাতঙ্ক হতে পারে: কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর, বাদুড়। মনে রাখবেন, ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালী, গুইসাপ এবং মানুষের কামড়ে জলাতঙ্ক হয় না।
লক্ষণসমূহ: ব্যথা, চুলকানি, হাত-পা ঝিমঝিম করা, জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ইত্যাদি। ধীরে ধীরে ব্যবহার বদলে যাওয়া, হ্যালুসিনেশন বা ভ্রম তৈরি হওয়া এবং পরিশেষে পানি খেতে ভয় পাওয়া, চোখে আলো সহ্য না হওয়া, অতিরিক্ত লালা পড়া, শেষে- মৃত্যু।
চিকিৎসা: জলাতঙ্ক একবার আক্রান্ত হলে তার আর কোনো প্রতিকার নেই। শুধু প্রতিরোধই এর একমাত্র ব্যবস্থা। প্রতিরোধে যা করবেন-
পোষা প্রাণীর স্পর্শ লাগলে বা অক্ষত চামড়ায় লালা লাগলে- আক্রান্ত স্থানটি ১৫ মিনিট সাবান পানি দিয়ে ভালোমতো ধুয়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে ভ্যাকসিনেশনের প্রয়োজন নেই।
আঁচড় লাগলে বা রক্তপাত ছাড়া ক্ষত হলে- প্রথমেই সাবান পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ধুয়ে নিন। দ্রুত র্যাবিসের ভ্যাকসিন নিন। আক্রান্ত হওয়ার পর ০, ৩, ৭ ও ১৪তম দিনে মোট ৪টি ভ্যাকসিন নিতে হবে।
আক্রান্ত স্থানটি কেটে বা ক্ষত হয়ে রক্তপাত হলে- পানি দিয়ে ধুতে হবে এবং দ্রুত র্যাবিস ভ্যাকসিন এবং র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিন দিতে হবে।
মায়ের দুগ্ধদানকালে, গর্ভাবস্থায়, ছোট বাচ্চা, বৃদ্ধ বা অন্য যেকোনো অবস্থায় র্যাবিস ভ্যাকসিন দিতে অসুবিধা নেই। মনে রাখবেন, জলাতঙ্কে মৃত্যু অনিবার্য কিন্তু এটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য।
লেখক: শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬






