মিশিগানে বাংলাদেশের দুদিন

আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্য। চারপাশে ব্যস্ত নগরজীবন, পরিচিত আমেরিকান পরিবেশ। কিন্তু ২৫ ও ২৬ জুলাই ওয়ারেন সিটি স্কয়ার যেন বদলে গিয়েছিল। বাংলায় কথোপকথন, দেশীয় খাবারের ঘ্রাণ, গান, নাচ, আড্ডা আর পরিচিত মুখের হাসিতে দুদিনের জন্য সেখানে তৈরি হয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের (বাম) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭তম ‘বাংলাদেশি আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল’। মিশিগানের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন এই আয়োজনে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের পর থেকেই উৎসবস্থলে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। বহুদিন পর পরিচিতজনের দেখা পেয়ে অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কুশল বিনিময় আর আড্ডায়। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে এই আয়োজন যেন সবাইকে কিছুটা সময়ের জন্য ফিরিয়ে নেয় পরিচিত সেই বাংলাদেশে।
মেলায় ছিল নানা ধরনের স্টল। বাংলাদেশি পোশাক, খেলনা, ঘর সাজানোর সামগ্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশীয় খাবারের দোকান—সব মিলিয়ে ছিল বৈচিত্র্যময় আয়োজন। প্রবাসের মাটিতে দেশীয় খাবার আর পছন্দের জিনিসপত্র কেনাকাটার সুযোগ পেয়ে মেলায় আগতদের মধ্যেও ছিল বেশ উৎসাহ।
উৎসবের বড় আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাউলশিল্পী কালা মিয়া, সংগীতশিল্পী কনা, মুজা, অনিক রাজ, রনি, আমজাদ ও টেন অ্যান্ড হাফ ব্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। বাংলা স্কুলের শিক্ষানবিশ শিল্পীরাও অংশ নেন সাংস্কৃতিক আয়োজনে। নাচ ও গানের পরিবেশনায় মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
ছিল র্যাফেল ড্রয়ের আকর্ষণও। প্রথম পুরস্কার হিসেবে রাখা হয়েছিল একটি গাড়ি। ফলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কেনাকাটার পাশাপাশি র্যাফেল ড্র নিয়েও মেলায় আগতদের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ। মেলার নিরাপত্তায় ছিলেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক ও ওয়ারেন পুলিশের সদস্যরা। আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিবিদ ও সিটি কর্মকর্তারাও মেলায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন।




