সব হিসাব ডলারে, বেতন কেন রুফিয়ায়

মালদ্বীপের মুদ্রা রুফিয়া
মাস জুড়ে পরিশ্রম করি। কাজ করি মালদ্বীপের মিলানদু আইল্যান্ডে। মাস শেষে বেতন হাতে আসে মালদ্বীপের মুদ্রা রুফিয়ায়। সেই বেতনের একটি অংশ দেশে পাঠাতে চান প্রবাসীরা। উদ্দেশ্য একটাই— পরিবারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়িঘর কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয়। কিন্তু উপার্জনের টাকা দেশে পাঠাতেই শুরু হয় বিড়ম্বনা।
রুফিয়া সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের বিকাশ, নগদ কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। আর এখানেই তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ।
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এক রুফিয়ার বিনিময়মূল্য যেখানে প্রায় ৮ টাকার কাছাকাছি, অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতে গিয়ে মালদ্বীপপ্রবাসীরা পান প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা— কখনো তার চেয়েও কম, অর্থাৎ প্রতি রুফিয়ায় কয়েক টাকা পর্যন্ত পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। মাস শেষে হাজার হাজার রুফিয়া দেশে পাঠানো একজন শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই ব্যবধান ছোট নয়।
ধরা যাক, একজন প্রবাসী মাসে ১০ হাজার রুফিয়া দেশে পাঠালেন। ৮ টাকা ও ৫ টাকা ৫০ পয়সার ব্যবধান ধরলে শুধু বিনিময়মূল্যের পার্থক্যেই তার ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। বাস্তবে হার ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী অঙ্কটি কমবেশি হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়— কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে একজন প্রবাসীকে কেন এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে? সমস্যা শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোতেই সীমাবদ্ধ নয়; পাসপোর্ট নবায়ন, বিমান টিকিট কেনা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় লেনদেনে ডলারের প্রয়োজন হলে রুফিয়া দিয়ে ডলার কিনতেও বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ডলার কিনতে অনেক সময় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ রুফিয়া পর্যন্ত খরচ করতে হয়। ব্যাংকের নির্ধারিত হারে সবসময় ডলার পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আমরা বেতন পাচ্ছি রুফিয়ায়, কিন্তু প্রয়োজনীয় অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে ডলারে। সবকিছু যদি ডলারেই হিসাব হয়, তাহলে আমরা রুফিয়ায় বেতন নেব কেন। বাংলাদেশ সরকারের সংিশ্লষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টা কি একটু দেখবে?




