তুলনা
চাকরির জন্য হার্ড নাকি সফট স্কিল

সিফাত খান
দক্ষতার মাত্রা কোন স্তরে থাকলে কর্মক্ষেত্রে বেশি সুবিধা হবে, এ নিয়ে দ্বিধা অনেকের। তুলনা টেনে পরামর্শ দিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রভাষক সিফাত খান
চাকরির বাজারে প্রবেশ এবং ক্যারিয়ারে দ্রুত উন্নতি করার ক্ষেত্রে হার্ড স্কিল ও সফট স্কিল— দুটিই ভূমিকা রাখে। তবে এ দুয়ের কার্যকারিতার ক্ষেত্র ভিন্ন। হার্ড স্কিল হলো কোনো নির্দিষ্ট কাজের কারিগরি বা প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, যা পরিমাপ করা যায়। যেমন— প্রোগ্রামিং, গ্রাফিকস ডিজাইন, ডেটা অ্যানালিটিকস বা অ্যাকাউন্টিং।
কোনো চাকরিতে আবেদনের প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে এই টেকনিক্যাল দক্ষতাগুলোই প্রার্থীকে ইন্টারভিউ বোর্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে।
পেশাগত জীবনে প্রবেশের জন্য হার্ড স্কিলকে প্রথম চাবিকাঠি বলা চলে, যা ছাড়া নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্ব সামলানো প্রায় অসম্ভব। তবে ইন্টারভিউ টেবিলে টিকে থাকা, দলগতভাবে কাজ করা এবং কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পদোন্নতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সফট স্কিল বা আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার ভূমিকা অনেক।
পেশাগত জীবনে প্রবেশের জন্য হার্ড স্কিলকে প্রথম চাবিকাঠি বলা চলে
সফট স্কিল হলো মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের ক্ষমতা, নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং যেকোনো কঠিন বা চাপযুক্ত পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলানোর মানসিকতা। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কল্যাণে হার্ড স্কিল অর্জনের প্রক্রিয়া বেশ সহজ হয়ে গেছে; কিন্তু একজন কর্মীর নৈতিকতা বা ইতিবাচক আচরণ কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। এ কারণে আধুনিক করপোরেট নিয়োগকর্তারা এমন কর্মীদের প্রাধান্য দিচ্ছেন, যারা নিজেদের কাজের পাশাপাশি অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে চমৎকার সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন।
চাকরির বাজারে সফলতার জন্য এ দুটি স্কিলের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই; বরং দুয়ের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। হার্ড স্কিল যদি আপনাকে কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার সুযোগ করে দেয়, তবে সফট স্কিল সেই প্রতিষ্ঠানে আপনাকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে এবং নেতৃত্বের আসনে বসাতে সাহায্য করবে। তাই ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অগ্রগতির জন্য টেকনিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি নিজের আচরণ ও যোগাযোগের দক্ষতা প্রতিনিয়ত উন্নত করা প্রয়োজন।




