পাবিপ্রবিতে পাখির ভুবন

বিকাল গড়াতেই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) আকাশ জুড়ে দেখা মেলে চড়ুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির। দল বেঁধে উড়ে বেড়ানো এই পাখিদের ডানার ঝাপটা ও কিচিরমিচিরে প্রাণ ফিরে পায় ক্যাম্পাস। তাতে ইট-কংক্রিটের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটে প্রকৃতি ও মানুষের এক অনন্য মেলবন্ধন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবন, কনভেনশন সেন্টার, ছাত্রী হল, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, মাতৃভাষা ও গণতন্ত্র হলের ছাদ-কার্নিশ এবং বিভিন্ন গাছের ডালে পাখির আনাগোনা চোখে পড়ে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশের বড় গাছ, প্রশাসনিক ভবনের ছাদ ও কার্নিশে কবুতর এবং অতিথি পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে। পাখির অবাধ বিচরণ ও কলতানে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দর্শনার্থীরা। বিকাল হলে আশপাশের এলাকা থেকে অনেকে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন। কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন পাখির গতিবিধি। এত কাছ থেকে পাখি দেখে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিশুরা। দর্শণার্থী ও ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই পাখির জন্য খাবার নিয়ে আসেন; ছড়িয়ে দেন দানা।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া পারভীন বললেন, ‘প্রতিদিন ক্যাম্পাসে পাখির ওড়াউড়ি দেখতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে বিকালে যখন একসঙ্গে অনেক পাখি আকাশে উড়ে বেড়ায়, তখন ব্যস্ততার মধ্যেও মন ভালো হয়ে যায়। আমরা চাই, ক্যাম্পাসে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল আরও বাড়ুক এবং সবাই তাদের প্রতি যত্নশীল হোক।’
ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী সাইমুন বললেন, ‘পাবিপ্রবিতে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রকৃতির এমন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ আমাদের জন্য আনন্দের। পাখি ক্যাম্পাসকে প্রকৃতিবান্ধব ও প্রাণবন্ত করে তোলে। পাখিকে বিরক্ত কিংবা পাখির বাসা নষ্ট না করা এবং খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা আমাদের দায়িত্ব।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গাছে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে। অনেকে গাছের ডালে মাটির কলস বেঁধে দিয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবে অনেক পাখি বিভিন্ন ভবনের কার্নিশ ও ছাদে আশ্রয় নিচ্ছে। গাছের সংখ্যা ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল বাড়ানো গেলে পাখির জন্য পরিবেশ আরও উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক বললেন, ‘ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি এবং তাদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে অতিথি পাখির আগমন আরও বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’



