বর্ষামুখর ইডেন আঙিনা

বর্ষাকে বরণ করতে নাচে, গানে মেতেছিলেন ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রীরা। ছবি: তানজিলা আক্তার
অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ৬ আগস্ট। কিন্তু বর্ষার আয়োজন, আর বৃষ্টি একটু বাদ সাধবে না, তা কি হয়! তুমুল বর্ষণে সেদিনের আয়োজন পণ্ড হয়ে গেলে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয় ৯ আগস্ট। সেদিন অবশ্য প্রকৃতি অতটা বিরূপ হয়নি। ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের খোলা মাঠে তাই নাচ, গান আর কাব্যের ঝঙ্কারে অনুষ্ঠিত হলো বর্ষাবরণ উৎসব।
বর্ষা ঋতুকে উদযাপন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে বিকাল ৪টা থেকে রাত পর্যন্ত চলে এই উৎসব। কলেজ প্রাঙ্গণের মঞ্চে দলীয় নৃত্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ছিল গান, কবিতা আবৃত্তি ও একক নৃত্য। ছাত্রীদের নানা পরিবেশনা মুগ্ধ করে সবাইকে। আয়োজক ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বললেন, ‘বর্ষা বাঙালির কাছে শুধু একটি ঋতুর নাম নয়; এটি প্রকৃতি, আবেগ ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন ও চিন্তায় পরিবর্তন এলেও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজনের আবেদন কখনো শেষ হয় না; বরং এ ধরনের আয়োজন তরুণীদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।’
সাংস্কৃতিক এই মিলনমেলা দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া হৃদি জানালেন, গত পাঁচ বছরে ইডেনে তিনি এমন বর্ষাবরণের আয়োজন দেখেননি। প্রতি বছর এ ধরনের আয়োজন করার দাবি জানিয়ে তিনি বললেন, ‘আধুনিকতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিপুল প্রভাবের মধ্যেও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন তরুণীদের সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।’
ইডেন মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন বললেন, ‘এখানে পরিবেশনাগুলোর পাশাপাশি উপস্থাপনাও আমার খুব ভালো লেগেছে। এ ধরনের উৎসব শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ করে দেয়।’
শিল্পীদের মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী নৌশিন জাহান নীলা জানালেন, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রায় তিন বছর পর তিনি মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করেছেন। দর্শকের ভালোবাসা, করতালি ও উৎসাহ তাকে নৃত্যে ফেরার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তিনি আরও বললেন, ‘এমন সফল সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য শিল্পীদের ভালো পরিবেশনার পাশাপাশি আয়োজকদের আন্তরিকতা ও দর্শকের ভালোবাসা থাকতে হয়।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাদিয়া হোসাইন অনুষ্ঠানে কবি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়ের ‘বর্ষা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন। এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে— এ প্রত্যাশা এই আবৃত্তিশিল্পীর।






