সীমিত সামর্থ্যে উন্নত গবেষণা

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবদুর রাজ্জাক
১৯৯৭ সালে গবেষণার পথে যাত্রা শুরু করেন। তখন প্রযুক্তির জগৎ আজকের মতো এত বিস্তৃত ছিল না। ওয়্যারলেস এটিএম নেটওয়ার্কের ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস লোকেশন’ সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে তার গবেষণার সূচনা। সেই কাজ উপস্থাপিত হয় আইসিসিআইটি সম্মেলনে। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে; পাল্টে গেছে তার গবেষণার পরিধিও। এখন ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, ইন্টারনেট যোগাযোগ ও এজ কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এসব ক্ষেত্রের গবেষণার ফলাফল শুধু প্রযুক্তির উন্নয়নে নয়; মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ড. রাজ্জাক তৈরি করেছেন ‘ড্রাইভার ডিস্ট্র্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ ডিভাইস। গাড়ি চালানোর সময় চালকের মনোযোগ বিচ্যুতির মতো সমস্যা সমাধানে তৈরি এই ডিভাইস বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এর বাণিজ্যিক প্রয়োগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
গবেষণার সূত্রে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ ভ্রমণ এবং বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পেয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশের গবেষণা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলোও কাছ থেকে দেখেছেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং নিয়ে উন্নত গবেষণার জন্য প্রয়োজন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার, বিশেষ করে জিপিইউভিত্তিক অবকাঠামো। জটিল তথ্য বিশ্লেষণ ও বড় পরিসরের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এসব প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। কিন্তু দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের কম্পিউটিং সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। ফলে গবেষণার আগ্রহ ও মেধা থাকা সত্ত্বেও অনেককে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়।
ড. রাজ্জাক জানালেন, গবেষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকরা একসঙ্গে কাজ করলে নতুন উদ্ভাবনের বাণিজ্যিক প্রয়োগের সুযোগ বাড়বে। এতে গবেষণার ফল যেমন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও উপকৃত হবে।



