বাঁধন পেল স্বীকৃতি

বাঁধনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ. এফ. রহমান হল ইউনিট সামাজিক কাজে অবদান রাখায় সম্প্রতি ‘প্রভোস্ট পুরস্কার’ লাভ করেছে। তাদের নিয়ে লিখেছেন হিমেল আহমেদ
‘প্রভোস্ট পুরস্কারপ্রাপ্তিতে খুব ভালো লাগছে। এটি আমাদের কাছে শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; বরং দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও মানবিক দায়িত্ববোধের সম্মানজনক মূল্যায়ন। প্রতিটি সদস্যের জন্য গর্বের।’ কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ. এফ. রহমান হল ইউনিট বাঁধনের সভাপতি মো. বাহারুল ইসলাম। সামাজিক কাজে অবদান রাখায় সম্প্রতি তারা ‘প্রভোস্ট পুরস্কার’ লাভ করেছেন। পুরস্কারপ্রাপ্তির নেপথ্যের কারণ জানতে কথা হলো পর্ষদের উপদেষ্টা মো. মাহাবুবুর রহমান সবুজের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘বাঁধন স্যার এ. এফ. রহমান হল ইউনিট শুরু থেকেই নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এই ধারাবাহিকতা ইউনিটের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চলমান আছে এবং আগামীতেও থাকবে। বিগত বছরে বাঁধন বেশ কয়েকটি দৃশ্যমান কাজ করতে পেরেছে, এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় চার দিন বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি এবং মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় এক দিনে ষাটোর্ধ্ব ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ ও তাৎক্ষণিক বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ ক্যাম্পেইন করা। এ কাজগুলো হলের উপদেষ্টা শিক্ষকসহ সব ছাত্রছাত্রীর ব্যাপক প্রশংসা পায়।’
এই ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনার আলাপের সময় হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. তুহিন হাসান অভিমত দেন, ‘আমরা বেশকিছু কৌশল অবলম্বন করি। সবচেয়ে কার্যকর দুটি কৌশল রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে হলের প্রায় দেড় হাজার ছাত্রের তথ্য সংগ্রহ করে রাখি। যাতে করে প্রয়োজনে তাদের ডাকা যায় এবং বিভিন্ন উৎসবে যখন লোকসমাগম বেশি হয়, তখন বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের কর্মসূচি পালন করি। বছরে বেশ কয়েকবার এ রকম কর্মসূচি প্রদান করে থাকি। এরই সঙ্গে সবাইকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করি।’ তরুণদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের হাত ধরেই এগিয়ে যাই। তাদের ভবিষ্যৎ সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সবসময় তৎপর থাকি।’
রক্তদানে অনাগ্রহীদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাগর আজিজ, ‘যারা রক্ত নিয়ে কাজ করে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে, যারা কোন কারণে রক্ত দিচ্ছে না, তাদেরকে মোটিভেট করা।’
সবশেষে বাঁধন নিয়ে হল প্রভোস্ট কাজী মাহফুজুল হক সুপন বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাঁধনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যেটি আসলেই ভলান্টিয়ারি ভিত্তিতে কাজ করে আসছে। বিভিন্ন জায়গায় যখন রক্ত দরকার হচ্ছে, আমি খুব দ্রুত এদের কাছ থেকে পেয়েছি। অসাধারণ কাজ করছে। এমন প্রত্যাশা ও স্বীকৃতি নিয়েই বাঁধন যেন ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও মানবিকতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, সেটিই এখন সবার কাম্য।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর জন্ম নেয় ‘বাঁধন’। এখন দেশের ৬১টি জেলায় ৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৬টি জোন, ১৪৮টি ইউনিট ও ১৪টি পরিবারের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ১৪৮টি ইউনিটের অন্যতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ. এফ. রহমান হল ইউনিট।




