নর্থ সাউথে ফার্মা ফেস্ট

ফার্মা ফেস্টে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি পারফরম্যান্স
ওষুধবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবার নানা সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা নিয়ে হয়ে গেল ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) ফার্মা ফেস্ট’। এর মূল ভাবনা ছিল ‘টেকসই উন্নয়ন’। স্লোগান ‘আজ সংরক্ষণ করি, আগামীতে সমৃদ্ধ হই’। ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হলো উৎসবটি। এনএসইউ ফার্মাসিউটিক্যাল ক্লাব ও ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের যৌথ আয়োজনে এখানে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক ও অলিম্পিয়াড, পোস্টার উপস্থাপনা, স্টল প্রদর্শনী, ফার্মা ওয়াক, উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী, আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ফার্মা ফেস্টের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী। শিক্ষার্থীদের তৈরি একটি প্রকল্প ছিল ‘বায়োমলিকিউল জেনারেটর বাই এআই’। এর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থী খন্দকার মিশেল জানালেন, তারা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ওষুধ আবিষ্কারের একটি উন্নত প্রক্রিয়া তৈরির কাজ করছেন। সম্ভাব্য জৈব অণু তৈরি ও ওষুধ আবিষ্কারের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারই তাদের মূল বিষয়।
হাড় পুনর্গঠনের উপাদান তৈরির উদ্যোগ নিয়ে এসেছিল ‘বোন ক্রাফট’। দলের সদস্য সুদীপ্ত বিশ্বাস জানালেন, হাড় ভাঙার চিকিৎসায় প্রচলিত ধাতব ইমপ্ল্যান্টের বিকল্প তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন তারা।
হাসপাতালে স্যালাইন দেওয়ার সময় পর্যবেক্ষণের জন্য যন্ত্র তৈরি করেছে ‘বিয়ন্ড ইনফিউশন’। দলটির প্রতিনিধিরা জানালেন, তাদের তৈরি ‘আইভি ড্রপ ডিটেক্টর’ যন্ত্রে মাইক্রোকন্ট্রোলার ও অ্যালার্ম ব্যবহার করা হয়েছে। স্যালাইন দেওয়ার সময় কোনো অনিয়ম শনাক্ত হলে যন্ত্রটি সংকেত দিতে সক্ষম। এর মাধ্যমে নার্সের কাজের চাপ কমানো এবং স্যালাইন দেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে সহায়তা করার লক্ষ্য তাদের। যন্ত্রটি কম খরচে ব্যবহারযোগ্য করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
ফার্মা ফেস্টে অংশ নেয় ৩০টির বেশি দেশীয় ওষুধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো, এভারেস্ট, বীকন, ইনসেপ্টা, রেনাটা, ইউনিমেড ইউনিহেলথ, হেলথকেয়ার, অ্যাপেক্স, স্কয়ার, রেডিয়েন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ওষুধশিল্পের নানা কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ ছিল। পোস্টার উপস্থাপন করা হয় প্রায় ৩০০টি। সেগুলোতে গবেষকরা তাদের গবেষণার বিষয় ও ফলাফল তুলে ধরেন।
এই আয়োজনে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস সম্মেলন (আইসিপিএস ২০২৬) হয়েছে। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেসের উদ্ভাবন’। তিন দিনের এ আয়োজনে ১১টি দেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল। অংশ নেন ৩০ জন আন্তর্জাতিক বক্তা, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। বাংলাদেশের ছয়টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারীরা যোগ দেন। সম্মেলনে পাঁচ শতাধিক গবেষণা-সারসংক্ষেপ জমা পড়ে। নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী ছিলেন সাত শতাধিক। মৌখিক উপস্থাপনায় অংশ নেন প্রায় অর্ধশত দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস সম্মেলনে বক্তব্য দেন সম্মেলনের সহসভাপতি ও মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার ফ্যাকাল্টি অব ফার্মাসির ডিন ড. নুসাইবাহ বিনতে আবদুল রহিম, এনএসইউর স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. দীপক কুমার মিত্র। ধন্যবাদ জানান এনএসইউ ফার্মাসিউটিক্যাল ক্লাবের ফ্যাকাল্টি উপদেষ্টা আদিত মুক্তাদির পাভেল।
ফার্মা ডিবেট ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ‘বি’ দল। ফাইনালে সেরা বিতার্কিক হন আরশা রশিদ। এনএসইউর ‘এ’ দল প্রথম রানার্সআপ হয়। দ্বিতীয় রানার্সআপ ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) ‘এ’ দল। ফার্মা অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন হয় এনএসইউ ‘এ’ দল। এনএসইউ ‘বি’ দল হয়েছে প্রথম রানার্সআপ। দ্বিতীয় রানার্সআপ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল। স্টল প্রদর্শনীতে ‘ফারম্যাট্রিক্স’ প্রথম, ‘অ্যাকুনোভা’ দ্বিতীয় এবং ‘দ্য কার্বন কিউর’ তৃতীয় হয়।



