আলঝেইমারে যত্নই শেষ কথা

অলংকরণ: ফারজিন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি কমে আসা, পরিচিত মানুষকে চিনতে না পারা কিংবা একই কথা বারবার বলা— এসব পরিবর্তন অনেক সময় বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো জটিলতা থাকতে পারে। তখন প্রবীণের যত্ন শুধু খাওয়া-দাওয়া কিংবা ওষুধ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, প্রতিদিনের জীবনকে যতটা সম্ভব স্বস্তিদায়ক করে তোলাও হয়ে ওঠে যত্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কেয়ারগিভিং রিসোর্স পারসন এবং আস্থা কেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী আক্তারের মতে, আলঝেইমার রোগীর ক্ষেত্রে মূল বিষয়ই হলো ‘কেয়ার’।
আলঝেইমারে আক্রান্ত একজন প্রবীণকে যত্ন করার প্রথম শর্ত হলো তাকে শুধু ‘রোগী’ হিসেবে না দেখা। শিল্পী আক্তারের ভাষায়, এখানে দরকার ‘পারসন-সেন্টারড কেয়ার’। তিনি কী পছন্দ করতেন, কী অপছন্দ করতেন, তার স্বভাব কেমন ছিল, কী পেশায় ছিলেন, কোন স্মৃতি তাকে আনন্দ দেয় কিংবা কোন ঘটনা তাকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে— এসব তথ্য একজন কেয়ারগিভারের জানা থাকলে প্রবীণের আচরণ বুঝতে সুবিধা হয়।
আলঝেইমারে আক্রান্ত প্রবীণ অনেক সময় এমন কিছু দেখতে বা বিশ্বাস করতে পারেন, যা বাস্তবে নেই। কখনো সময়ের হিসাবেও ভুল হতে পারে। রাতকে তিনি দুপুর ভাবতে পারেন, আবার বহু বছর আগে অবসর নেওয়া মানুষটি রাতেও মনে করতে পারেন যে তাকে অফিসে যেতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ভুল করছেন তা বারবার মনে করিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করেন শিল্পী আক্তার। এ রোগে আক্রান্ত প্রবীণ হঠাৎ রেগে যেতে পারেন, কিংবা অস্বাভাবিক অস্থির হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু প্রতিটি আচরণের পেছনেই কোনো না কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে।
শিল্পী আক্তার বলেছেন, ‘হয়তো তার ক্ষুধা লেগেছে, কোথাও ব্যথা করছে কিংবা শরীরের কোনো অস্বস্তি হচ্ছে। কিন্তু তিনি সেটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।’
এ রোগের কারণে একজন প্রবীণ কখনো নিজের স্বামী, স্ত্রী, সন্তান কিংবা পুত্রবধূকে চিনতে নাও পারেন। কাউকে অন্য কোনো পরিচয়ে ডাকতে পারেন, আবার প্রিয় মানুষকেও সন্দেহ করতে পারেন। পরিবারের সদস্যদের বুঝতে হবে, এসব আচরণ ইচ্ছাকৃত নয়। আলঝেইমারে আক্রান্ত প্রবীণের জন্য দিনের প্রতিটি ছোট কাজই যত্নের অংশ। সকালে ঘুম থেকে ওঠা, দাঁত ব্রাশ করা, পোশাক পরা, খাওয়া, পানি পান করা থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া— পুরো রুটিনের দিকে নজর রাখতে হয়।
শিল্পী আক্তারের মতে, এটিই ‘অ্যাকটিভিটিজ অব ডেইলি লিভিং’। পোশাক যেন সহজে খোলা যায়, পানির মগে হাতল থাকে, যাতে সহজে ধরা যায়— এমন ছোট বিষয়ও প্রবীণের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে পোশাকে নাম, ফোন নাম্বার ও বাড়ির ঠিকানা লিখে রাখা যেতে পারে, কারণ প্রবীণ কখনো একা বাইরে চলে যেতে পারেন।



