আগামীর সময়

ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিলেই পাবেন ৩২ লাখ টাকা!

ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিলেই পাবেন ৩২ লাখ টাকা!

সংগৃহীত ছবি

ইউরোপের ছোট্ট একটি দেশ মাল্টা। এই মহাদেশের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে রাস্তার আয়তনের অনুপাতে গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। এ কারণে শহরের রাস্তায় প্রায়ই দেখা যায় দীর্ঘ যানজট। তীব্র এই যানজট থেকে মুক্তি পেতে মাল্টা সরকার হাতে নিয়েছে এক বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা। তারা নাগরিকদের প্রস্তাব দিয়েছে, যদি কেউ স্বেচ্ছায় নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্স ৫ বছরের জন্য সরকারের কাছে জমা দেয় তবে তাকে দেওয়া হবে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার।

‎মাল্টার পরিবহন মন্ত্রী ক্রিস বোনেট এই প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ড্রাইভিং লাইসেন্স সারেন্ডার স্কিম। এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মানুষের মাঝে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চলাফেরার অভ্যাসে এক ধরনের আমূল পরিবর্তন আনা। সরকার চায় তরুণরা যেন নিজস্ব গাড়ি ব্যবহারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে পড়ে। গাড়ি চালানো একটি দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে পরিণত হওয়ার আগেই তারা মানুষের চিন্তাধারা বদলে দিতে ব্যবস্থা করেছে এ আর্থিক প্রণোদনার ।

‎সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো চালক যদি ৫ বছরের জন্য তার লাইসেন্স ত্যাগ করে এবং এই সময়ে গাড়ি না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয় তবে তাকে দেওয়া হবে ২৫ হাজার ইউরো। বর্তমানে যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩২ লাখ টাকা এবং আমেরিকান ডলারে প্রায় ২৯ হাজার ডলারের সমান।

‎‎তবে এই বিশাল অঙ্কের টাকা একবারে পাওয়া যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী এই টাকা পাঁচ বছর ধরে কিস্তিতে দেওয়া হবে। প্রতি বছর ৫ হাজার ইউরো করে পাবেন সুবিধাভোগীরা। এখানে একটি শর্ত রয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং আবার গাড়ি চালাতে চান, তবে তাকে প্রাপ্ত টাকা ফেরত দিতে হবে। এই ফেরত দেওয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে তিনি কতদিন গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছিলেন তার ওপর। অর্থাৎ যত দিনের টাকা তিনি আগেভাগেই নিয়ে নিয়েছেন, সেই অনুপাতে টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হবে।

‎এই সুযোগটি অবশ্য সবাই পাবেন না। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা প্রয়োজন। আবেদনকারী চালকের বয়স অবশ্যই ৩০ বছর বা তার কম হতে হবে। তাকে মাল্টায় অন্তত ৭ বছর স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। এছাড়া তার কাছে কমপক্ষে ১২ মাস পুরনো একটি বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। ইতিপূর্বে কোনো আইনি কারণে লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হয়েছে এমন কেউ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন না।

‎মাল্টা সরকার এই প্রকল্পের জন্য প্রতি বছর ৫০ লাখ ইউরোর একটি বড় বাজেট বরাদ্দ করেছে। প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১ হাজার ব্যক্তি এ সুবিধা পাবেন। শুরুর দিকে এই প্রকল্পের প্রতি স্থানীয় তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এতে একটি বিষয় পরিষ্কার যে অনেক তরুণের কাছে গাড়ি চালানোর আনন্দের চেয়ে এই বড় অংকের নগদ টাকার গুরুত্ব অনেক বেশি।

‎আরেকটি মজার বিষয় হলো একবার লাইসেন্স জমা দিয়ে দিলে সেটি স্থায়িভাবে স্থগিত বলে গণ্য হবে। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি কেউ আবার লাইসেন্স ফিরে পেতে চান, তবে তাকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। শুধু তাই নয়, নতুন লাইসেন্স পেতে হলে তাকে অন্তত ১৫ ঘণ্টার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিতে হবে। মূলত এই কড়াকড়ি নিয়ম করা হয়েছে যেন মানুষ সহজে গাড়ি চালানোর দিকে আবার ঝুঁকে না পড়ে।

‎মাল্টা সরকারের এই সাহসী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য রাস্তায় সক্রিয় চালকের সংখ্যা কমিয়ে আনা। তারা চান সাধারণ মানুষ যেন ব্যক্তিগত গাড়ির মায়া ছেড়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত হয়। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ যখন যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে তখন মাল্টার এই অর্থ দিয়ে লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে এক বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সূত্র : অডিটি সেন্ট্রাল

    শেয়ার করুন: