বিউটি
ব্লাশে ব্লাইন্ডনেস

ছবি: আগামীর সময়
ব্লাশ সৌন্দর্যে এনে দেয় প্রাণবন্ত আভা। তবে এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই নতুন ট্রেন্ড ঘিরে লিখেছেন ফারিয়া এজাজ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। নতুন নতুন মেকআপ ট্রেন্ড জনপ্রিয় হচ্ছে, আবার কিছুদিন পর কোনো কোনোটা হারিয়েও যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিউটি ট্রেন্ড- ‘ব্লাশ ব্লাইন্ডনেস’। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো পরিভাষা নয়; বরং বিউটি কমিউনিটিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি অনানুষ্ঠানিক শব্দবন্ধ।
মেকআপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ব্লাশ। এটি মুখে প্রাণবন্ততা ও সতেজতার ছেঁায়া এনে দেয়। কিন্তু কখনো কখনো ব্লাশের ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, ব্যবহারকারী নিজেই বুঝতে পারেন না তিনি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্লাশ ব্যবহার করছেন। নিজের কাছে মেকআপটি স্বাভাবিক মনে হলেও অন্যদের কাছে তা দৃষ্টিকটু লাগতে পারে। এই প্রবণতাকেই বলা হচ্ছে ব্লাশ ব্লাইন্ডনেস।
রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীনের মতে, এর পেছনে কাজ করে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির স্বাভাবিক একটি বৈশিষ্ট্য। কোনো রঙ, স্টাইল বা মেকআপ লুক দীর্ঘদিন ধরে দেখতে দেখতে আমাদের চোখ সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে ধীরে ধীরে ব্লাশের পরিমাণ বাড়লেও তা আর অতিরিক্ত বলে মনে হয় না। একই ঘটনা ভ্রুর আকৃতি, কনট্যুর, লিপ লাইনার কিংবা চুলের স্টাইলের ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে।
এখন শুধু গালেই নয়; নাক, কপাল, চোখের পাতা এমনকি চিবুকেও ব্লাশ ব্যবহার করা হচ্ছে
এই প্রবণতা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় ভূমিকা রয়েছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের অনেক বিউটি কনটেন্ট ক্রিয়েটর গাঢ় ব্লাশ ব্যবহার করেন। কারণ ক্যামেরার আলো, ফিল্টার ও এডিটিংয়ের কারণে মেকআপের রঙ বাস্তবের তুলনায় অনেকটাই হালকা দেখায়। ফলে ক্যামেরার সামনে যে পরিমাণ ব্লাশ আকর্ষণীয় দেখায়, বাস্তবে তা অনেক বেশি উজ্জ্বল মনে হতে পারে। অনেক অনুসারী সেই লুক অনুসরণ করতে গিয়ে এই পার্থক্য বুঝতে পারেন না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বয়ফ্রেন্ড ব্লাশ, সানবার্ন্ট ব্লাশ এবং ড্রেপিংয়ের মতো ট্রেন্ড জনপ্রিয় হওয়ার পর ব্লাশ ব্যবহারের মাত্রাও বেড়েছে। এখন শুধু গালেই নয়; নাক, কপাল, চোখের পাতা এমনকি চিবুকেও ব্লাশ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ব্লাশ ব্লাইন্ডনেস নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।
তবে এই প্রবণতাকে সবাই নেতিবাচকভাবে দেখেন না। অনেকের মতে, মেকআপ হলো নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচি প্রকাশের একটি মাধ্যম। কেউ যদি গাঢ় ব্লাশ ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাহলে সেটিকে ভুল বলার সুযোগ নেই। ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের জগতে ব্যক্তিগত পছন্দের গুরুত্ব সবসময়ই রয়েছে। একজনের কাছে যা অতিরিক্ত মনে হয়, অন্যজনের কাছে সেটিই হতে পারে স্টেটমেন্ট।
তবু রূপবিশেষজ্ঞরা আত্মসচেতনতার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, নিজের মুখের গঠন, ত্বকের রঙ, পরিবেশ এবং আলোর ধরন বিবেচনা করে ব্লাশ ব্যবহার করা ভালো। কারণ, সেলফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরা অনেক সময় রঙকে ফিকে দেখায়। ফলে অজান্তেই বেশি ব্লাশ ব্যবহার হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু আয়নার খুব কাছ থেকে নয়, কিছুটা দূরে সরে কিংবা প্রাকৃতিক আলোতে নিজের মেকআপ দেখে নেওয়া উচিত। অনেকে এটিকে স্টেপ অ্যাওয়ে ফ্রম দ্য মিরর নিয়মও বলে থাকেন। তারা মনে করেন, মেকআপের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বকে উপভোগ করা। তাই ট্রেন্ড অনুসরণ করা যেতেই পারে, তবে নিজের মুখের সঙ্গে মানানসই এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ লুক খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





