অন্দর মহল
বৃষ্টির দিনে ঘরে নজর

সংগৃহীত ছবি
বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, কম রোদ আর টানা বৃষ্টির কারণে ঘরে তৈরি হয় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। এ সময়ে ঘর ভালো রাখার পরামর্শ দিলেন তুলি রহমান
আলো-বাতাস: বর্ষায় জানালা-দরজা বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। এতে ঘরের ভেতর আর্দ্রতা জমে যায়। তাই বৃষ্টি থামলে কিছু সময়ের জন্য জানালা খুলে দিন। সম্ভব হলে সকালে বাতাস চলাচলের সুযোগ রাখুন। এতে ঘরের ভ্যাপসা ভাব কমবে।
স্যাঁতসেঁতে ভাব এড়াতে: দেয়ালের কোণ, আলমারির পেছন বা বিছানার নিচে আর্দ্রতা জমে ছত্রাক হতে পারে। কালো বা সবুজ দাগ দেখা দিলে দ্রুত পরিষ্কার করুন। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
কাপড় ও আলমারির যত্ন: বর্ষায় কাপড় শুকাতে বেশ সময় লাগে। সামান্য ভেজা কাপড়ও আলমারিতে তুলে রাখবেন না। এতে কাপড়ে গন্ধ হয় এবং ছত্রাক জন্মাতে পারে। আলমারির ভেতরে ন্যাপথলিন বা আর্দ্রতা শোষণকারী প্যাকেট রাখা যেতে পারে।
বিছানাপত্রে সতেজতা: চাদর, বালিশের কভার ও কম্বল নিয়মিত পরিবর্তন করুন। রোদ না থাকলেও বাতাসে কিছুক্ষণ মেলে রাখলে আর্দ্রতা কমে। এতে ঘুমও হবে আরামদায়ক।
রান্নাঘরে সতর্কতা: আর্দ্র আবহাওয়ায় খাবার দ্রুত নষ্ট হতে পারে। শুকনো খাবার বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন। রান্নাঘরের সিঙ্ক ও কোনাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করুন, যাতে দুর্গন্ধ বা জীবাণু না জন্মায়।
শুকনো মেঝে: বাইরে থেকে ভেজা পা বা জুতা নিয়ে ঘরে ঢুকলে মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে। দরজার সামনে শোষণক্ষম পাপোশ রাখুন। প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার মেঝে মুছে নিন।
পোকামাকড়ের উপদ্রবে: বর্ষাকাল মশা, তেলাপোকা ও পিঁপড়ার জন্য আদর্শ সময়। ফুলের টব, বারান্দা বা ঘরের আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না খেয়াল রাখুন। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে অনেক সমস্যাই এড়ানো যায়।
কাঠের আসবাবে নজর: আর্দ্রতায় কাঠের আসবাব ফুলে যেতে কিংবা সেগুলোর রঙ নষ্ট হতে পারে। আসবাবপত্র দেয়ালের সঙ্গে একেবারে ঠেসে না রেখে কিছুটা ফাঁকা রাখুন। শুকনো কাপড় দিয়ে নিয়মিত মুছে নিলে ভালো থাকবে।
ঘরে সতেজ অনুভূতি: ছোট্ট একটি ফুলদানিতে তাজা ফুল, পরিষ্কার পর্দা বা হালকা সুগন্ধি ঘরের পরিবেশ বদলে দিতে পারে। বর্ষার মলিনতাকে দূরে সরিয়ে ঘরে এনে দিতে সক্ষম প্রশান্তির আবহ।




