আনকোরা
নকশি পিঠার নকশা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঐতিহ্যগতভাবেই গ্রামীণ নারীরা হরেক নকশায় সাজিয়ে তোলেন নকশি পিঠা। এর প্রেরণা নিয়ে আনকোরা সব পোশাকের নকশা করেছেন এক শিক্ষার্থী
হুজাইফা আক্তার আঁখি। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার অংশ হিসেবে নকশা করেছেন এ অভিনব পোশাকগুলো। জানালেন, পাশ্চাত্য ঘরানার পোশাকের মধ্যে দেশি ঐতিহ্য ধরে রেখে কাজ করতে ভালো লাগে তার। কাজে নিজ হাতের ছোঁয়াকে প্রাধান্য দেন। থিম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এমন প্ল্যাটফর্ম নিতে চেয়েছেন, যেটি ঐতিহ্যের প্রকাশ ঘটায়; অথচ আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি মনোযোগ পায়নি। তাই বেছে নিয়েছেন নকশি পিঠাকে। কেননা, এমন পিঠাতে প্রচুর নকশা ব্যবহার করা হয়। গ্রামীণ নারীরা নিজেদের চিন্তাকে ব্যবহার করে কাঠির সাহায্যে আটার ওপর এর নকশাগুলো করেন। আঁখি সেখান থেকে নিয়েছেন প্রেরণা।
নকশি পিঠা ভাজার পর যে রঙ ফুটে ওঠে, সেটি বেছে নিয়েছেন মূল রঙ হিসেবে
নকশি পিঠা ভাজার পর যে রঙ ফুটে ওঠে, সেটি বেছে নিয়েছেন মূল রঙ হিসেবে। সঙ্গ দিয়েছে মাটির রঙ; কেননা, নকশি পিঠা সাধারণত মাটির চুলায় প্রস্তুত করা হয়। আর ব্লক প্রিন্টের কালার হিসেবে নিয়েছেন কাঁচা আটার রঙ। আঁখি বললেন, ‘কাপড় হিসেবে ব্যবহার করেছি কুমিল্লা থেকে বুনে আনা খাদি। তার সঙ্গে মসলিন। পাঁচ গজ দৈর্ঘ্যের তসর সিল্কের ওড়নার ওপর ফুটিয়ে তুলেছি নকশি পিঠা বোনার ইতিহাস। কীভাবে গ্রামীণ নারীরা আটা থেকে নকশি পিঠা বানান, বানানোর সময় হাসাহাসি ও খোশগল্প করেন, শহুরে ও গ্রামীণ মেলায় সেসব পিঠা কীভাবে বিক্রি করা হয়, এসব চিত্রের পাশাপাশি তথ্য লিখে দিয়েছি বাংলায়।’
এই সংগ্রহের পুরো ওড়না হাতে এমব্রয়ডারি করা। দেশি ভাব রাখার জন্য। তাই কাপড় কেনার পর নিজে ডাই করে নিয়েছেন এই নকশাকার। কেননা, খাদি সাধারণত সাদা বা অফহোয়াইট ছাড়া অন্য কোনো রঙের হয় না।
‘ইন্টারনেটে সার্চ করলে নকশি পিঠার মোটিফ তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না। আমার নকশার মোটিফগুলো ডেভেলপ করে নিয়ে কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে, কাঠের ব্লক ডাইস তৈরি করে, রাজধানীর নিউ মার্কেট থেকে ব্লক প্রিন্ট এবং ম্যানুয়াল এমব্রয়ডারি করেছি’— বললেন তিনি। মাটির রঙ, ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং আধুনিক সিলুয়েটের সমন্বয়ে এ পোশাক আমাদের শিকড়, সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাতে নকশি পিঠার গল্প পরিণত হয়েছে পরিধানযোগ্য শিল্পে।




