জীবন যাপন
কফির স্বাদে মগ্ন দিন

মডেল: অ্যাঞ্জেলা ডি’কস্টা; মেকওভার: অরা বিউটি লাউঞ্জ; স্থান: থার্টি থ্রি; ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
অনেকের কাছে এক কাপ কফিই ভরসা। এর সুবাসে জড়িয়ে গেছে নতুন অভিজ্ঞতা, আড্ডা, ভ্রমণ আর স্বাদ আবিষ্কারের আনন্দ। এর নাম কফি হপিং। লিখেছেন সায়মন
কফি হপিং বলতে বোঝায় এক দিনে বা নির্দিষ্ট সময়ে একাধিক কফিশপে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ধরনের কফি, পরিবেশ ও সংস্কৃতি উপভোগ করা। বিশ্বের নানা শহরে এটি বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়। সম্প্রতি ঢাকাতেও তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বাড়ছে। ছুটির দিনে বন্ধুদের নিয়ে কিংবা একাই অনেকে বেরিয়ে পড়ছেন নতুন কিংবা পরিচিত কফিশপগুলো ঘুরে দেখতে।
অভিজ্ঞতার সুবাস: প্রতিটি কফিশপেরই থাকে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। কোথাও বই পড়ার শান্ত পরিবেশ, কোথাও শিল্পকর্মে সাজানো দেয়াল, কোথাওবা খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা। ফলে কফি হপিং মানে শুধু পানীয়ের স্বাদ নেওয়া নয়, বরং ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়াও। একটি ক্যাফেতে হয়তো পাওয়া গেল গাঢ় স্বাদের এসপ্রেসো, আরেকটিতে দুধের মোলায়েম ফেনায় তৈরি লাতে। কোথাও বিশেষ আকর্ষণ কোল্ড ব্রু, কোথাও আবার নিজস্ব রেসিপির সিগনেচার কফি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় স্বাদ, সুবাস আর অনুভূতি।
তারুণ্যের ঠিকানা: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কফি হপিং হয়ে উঠেছে জীবনধারার অংশ। নতুন ক্যাফে খুঁজে নেওয়া, ছবি তোলা, কফির স্বাদ নিয়ে মতামত দেওয়া— সব মিলিয়ে এটি অনেকের কাছে শখ। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বাড়ছে। ব্যস্ত নগরজীবনের একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে কিছুটা সময় নিজের মতো কাটানোর একটি উপায় এই চর্চা।
খেয়াল রাখা ভালো: এক দিনে খুব বেশি কফি পান করা স্বাস্থ্যকর নয়। তাই প্রতিটি ক্যাফেতে বড় কাপে চুমুক না দিয়ে, ছোট পরিবেশন বেছে নিতে পারেন। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। একের বদলে বিভিন্ন ধরনের কফি চেখে দেখলে অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়। চাইলে কফির সঙ্গে পরিবেশিত হালকা খাবারের স্বাদও নিতে পারেন।
নতুন চোখে শহর: কফি হপিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ হলো শহরকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা। একটি ক্যাফে থেকে আরেকটিতে যেতে যেতে দেখা হয় নতুন রাস্তা ও মানুষ। অনেক সময় গন্তব্যের চেয়েও পথটাই হয়ে ওঠে বেশি উপভোগ্য। কেউ কেউ কফি হপিংকে ছোট্ট একধরনের নগরভ্রমণও বলেন। কারণ এর মাধ্যমে পরিচিত শহরের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় অচেনা অনুভূতি।
কাপের বাইরে যা কিছু: কফির জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই বদলাচ্ছে এর সংস্কৃতি। কফি পান আসলে পানীয়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরিরও একটি মাধ্যম। সে কারণেই কফি হপিং এখন শুধু ট্রেন্ড নয়; অবসর, আড্ডা, স্বাদ আর শহরকে নতুন করে জানার এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা। এক কাপ কফি শেষ হয় কয়েক মিনিটে; কিন্তু একে ঘিরে তৈরি হওয়া গল্প, আড্ডা আর স্মৃতিগুলো থেকে যায় বহুদিন। কফি হপিংয়ের মূল আকর্ষণ সেখানেই।
ঢাকার জনপ্রিয় কফিশপ: রাজধানী জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে কফিশপ, যেগুলোতে নিয়মিতই ভিড় করেন কফিপ্রেমীরা। এর মধ্যে গুলশান ও বনানীর গুলশান বেকিং কোম্পানি, দ্য হোয়াইট ক্যানারি ক্যাফে, গ্লোরিয়া জিন্স ও নর্থ এন্ড; ধানমন্ডির তাবাক কফি, ক্রিমসন কাপ কফি হাউস, কিভা হান ও বিনসন অ্যারোমা; বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কোবো, টিবিএস ও কসমো ক্যাফে অ্যান্ড বিস্ত্রো; বেইলি রোডের থার্টি থ্রি এবং উত্তরার ক্রিমসন কাপ ও পেয়ালা বুক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।




