বিউটি
টিন্ট ট্রেন্ড

মডেল: অ্যাঞ্জেলা ডি’কস্টা, সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ, ছবি: অপূর্বা
লিপস্টিকের দিন ফুরোলো বলে! বিউটি বক্সে সরব উপস্থিতি লিপ টিন্টের। সহজে প্রয়োগযোগ্য; টেকসইয়ে বাজিমাত। লিখেছেন অলকানন্দা রায়
সকালটা শুরু হয়েছিল তাড়াহুড়োয়। বাস ধরতে হবে, অফিসে পৌঁছানো চাই সময়মতো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হয়তো খেয়াল করলেন, আজ আর পুরো মেকআপ করার সময় নেই। শুধু হালকা টাচ চাই, যাতে ফ্রেশ দেখাবে, অথচ বাড়তি সময় লাগবে না। এমন সময়ে ঠোঁটসজ্জায় রেগুলার লিপস্টিকের বদলে ট্রেন্ড এখন লিপ টিন্টের। আলতো করে ঠোঁটের চারপাশে বুলিয়ে দিলেই, ব্যস!
লিপস্টিকের বিপরীতে
ঠোঁট রাঙানোর অনুষঙ্গ হিসেবে লিপস্টিকের ব্যবহার সর্বাধিক। খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য কারণে তার রঙ মুছে যায় বলে বারবার টাচআপের দরকার পড়ে। এতে ঠোঁটে ভারী স্তর তৈরি হয়। লিপ টিন্ট সেই চেনা অস্বস্তি বদলে দিয়েছে। এ এমন একধরনের লাইটওয়েট লিকুইড বা জেল, যা ঠোঁটের ওপর ভারী স্তর তৈরি না করে ভেতরে মিশে যায়। ফলে এটি লিপস্টিকের মতো বসে থাকে না; বরং ঠোঁটকে রাঙিয়ে দেয় ভেতর থেকে। রঙ থাকে অক্ষুণ্ন। ঠোঁটে প্রকাশ পায় নিজস্বতা।
নো-মেকআপ লুক
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হয় বলে সাধারণত সবাই খোঁজেন সহজ কিছু। লিপ টিন্ট ঠিক সেই জায়গাতেই জায়গা করে নিয়েছে। বাসে, রিকশায় কিংবা অফিসের ডেস্কে বসেই একটুখানি টাচআপ আর আপনি রেডি। আয়নার দরকার নেই; নিখুঁত লাইন ঘিরে নেই দুশ্চিন্তার বালাই। রঙের বাড়াবাড়ি কিংবা অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা— নেই এমন ঝক্কিও; বরং আছে নরম, কোমল স্বাভাবিক এক আভা। অনেকেই এখন নো-মেকআপ লুকের দিকে ঝুঁকছেন। সেখানে লিপ টিন্ট একেবারে সোনায় সোহাগা। সহজ ব্যবহারযোগ্যতা একে করে তুলেছে প্রায় রূপচর্চাকারীর সঙ্গী।
লিপ টিন্ট শুধু ঠোঁট রাঙানোতেই সীমাবদ্ধ নেই; গালের ওপর হালকা ব্লাশ হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য
ব্যবহারে ভিন্নতা
লিপ টিন্ট শুধু ঠোঁট রাঙানোতেই সীমাবদ্ধ নেই; গালের ওপর হালকা ব্লাশ হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য। এক পণ্যেই দুই কাজ। ব্যস্ত জীবনে এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! দিন শেষে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যদি নজরে পড়ে, সারা দিনের দৌড়ঝাঁপের পরও ঠোঁটের রঙ অটুট রয়ে গেছে, কার না ভালো লাগে! এ জন্যই অনেকের কাছে এই সৌন্দর্যপণ্যের ডাকনাম লিপ স্টেইন। খাওয়া-দাওয়া বা ঘামের কারণে রঙ পুরোপুরি উঠে যায় না; ক্ষেত্রবিশেষে একটু হালকা হয় বৈকি।
কোন শেড কার জন্য
সঠিক শেড বেছে নিলে লিপ টিন্টের সৌন্দর্যছটা আরও খুলে যায়। ফর্সা ত্বকে পিঙ্ক, কোরাল; শ্যামলা বা ডাস্কি টোনে বেরি, প্লাম, ব্রিক ভালো মানায়। ন্যাচারাল লুক চাইলে নিজের ঠোঁটের রঙের কাছাকাছি শেড বেছে নেওয়াই শ্রেয়।
প্রয়োগ প্রক্রিয়া
লিপ টিন্ট ব্যবহার যত সহজ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ এর যত্ন-আত্তি। প্রয়োগের আগে ঠোঁট স্ক্রাব করে মসৃণ রাখা চাই। শুরুতে লিপ বাম ব্যবহার করে অল্প পরিমাণ লিপ টিন্ট লাগিয়ে ব্লেন্ড করা উত্তম। কারণ, টিন্ট অনেক সময় ঠোঁট একটু শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই নিয়মিত ঠোঁটের যত্নও জরুরি।
জেনে রাখা ভালো
সব ট্রেন্ড যেমন সবার জন্য সমান কাজ করে না, লিপ টিন্টও এর ব্যতিক্রম নয়। খুব শুষ্ক ওষ্ঠে এর প্রয়োগের ফলে অমসৃণ দেখাতে পারে। আবার কিছু গাঢ় পিগমেন্টেড ঠোঁটে এর শেড ঠিকমতো ফুটে ওঠে না। ঠোঁট থেকে লিপ টিন্ট পুরোপুরি তুলতে প্রয়োজন অয়েল-বেসড রিমুভার। অবশ্য সঠিক ব্যবহার আর যত্নে এই সীমাবদ্ধতাগুলো সহজে সামলানো সম্ভব।





